সিপিআই(এমএল) রাজ্য সম্পাদক পার্থ ঘোষ এক বিবৃতিতে বলেন, পুলিশ-প্রশাসনের একাংশকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যজুড়ে বিশেষত উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর, পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুর, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগণার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তান্ডব ও গুণ্ডামী চালিয়েছে বিজেপি এবং আরএসএস-এর অস্ত্রধারী কর্মীরা। কোথাও কোথাও তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা একাজে তাদের মদত দিয়েছে। রেলপ্রশাসন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়েছে, এমনকি বহু লোকাল ট্রেন বাতিল করেছে। রেল পুলিশ বামপন্থীদর ডাকা বনধ্ হরতাল ধর্মঘট ভাঙতে তৎপরতা দেখায়, বিজেপি'র ডাকা বনধে রেল অবরোধ তুলতে সে তৎপরতা তাদের দেখা যায়নি। এসব সত্ত্বেও রাজ্যের গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ বিজেপি-র ডাকা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বনধকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এখানে ওখানে বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত কিছু দোকানপাট বন্ধ থাকলেও বিজেপির ডাকা বনধ্ রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। বনধ ব্যর্থ করার জন্য আমরা রাজ্যের জনগণকে অভিনন্দন জানাই। বনধ ব্যর্থ হলেও দাড়িভিটে ছাত্র হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি নস্যাৎ হয়ে যায় না। ছাত্র হত্যার জন্য দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের শাস্তির দাবি আজও সমানভাবে জীবন্ত। এই দাবিতে আমাদের প্রতিবাদ আন্দোলন চলবে।
বিপিএমও (বেঙ্গল প্লাটফর্ম অফ মাস অর্গানাইজেশনস) ১১৭ টি গণসংগঠনের মিলিত মঞ্চ। দশ দফা দাবিতে 'অধিকার যাত্রা' গত ১০ সেপ্টেম্বর কুচবিহার থেকে শুরু হয়েছে এবং ৩ অক্টোবর ২০১৮ কলকাতায় জনসভার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এর মধ্যে আছে অসংখ্য ছোট বড় মিছিল, জাঠা ও জনসভা। সারা রাজ্যে ৮৭ হাজার বুথ এবং ৫০ হাজার কিলোমিটার পদযাত্রায় ৭ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করবেন।
উত্তর ২৪ পরগণার ৮২৫০ টা বুথের বেশিরভাগ বুথে ইতিমধ্যে পদযাত্রীরা পৌঁছে গেছে। এই পদযাত্রায় এআইসিসিটিইউ, এআইপিডব্লিউএ, এআইএসএ, এআইআরএলএ, এআইকেএম এবং পশ্চিমবঙ্গ গণ সংস্কৃতিক পরিষদ নিজ নিজ ঝান্ডা, ফেস্টুন সহকারে অংশ নিয়েছে—বনগাঁ, চাঁদপাড়া, গাইঘাটা, অশোকনগর, বসিরহাট, বারাসাত, বেলঘরিয়া, বরানগর, হালিশহর, নৈহাটি প্রভৃতি অঞ্চলে। জনসভাগুলিতে বক্তারা ছিলেন—কৃষ্ণপদ প্রামানিক, অজয় বসাক, সুজিত ঘোষ, উত্তম দাস, শম্ভুনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, শিবশঙ্কর গুহরায়, সাগ্নিক চক্রবর্তী, নবেন্দু দাশগুপ্ত প্রমুখ এবং গণসংগীত পরিবেশন করেন বাবুনি মজুমদার ও সরিৎ চক্রবর্তী।
সিপিআই(এমএল) লিবারেশন বিষ্ণুপুর সাতগাছিয়া লোকাল কমিটি ও এআইসিসিটিইউ বিষ্ণুপুর ব্লক-২ কমিটির পরিচালনায় গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর "মোদী হঠাও, দেশ বাঁচাও, শ্রমিক বাঁচাও, জীবিকা বাঁচাও, গণতন্ত্র বাঁচাও" শীর্ষক পথসভা আয়োজন করা হয় বাখরাহাট এলাকার বুড়িরপোল নতুনরাস্তার মোড়ে। লাল ঝান্ডা, ব্যানার, চাইনিজ দ্বারা সুসজ্জিত করে তোলা হয় এলাকাকে। শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতিতে শ্লোগান ওঠে "আম্বানি আদানির দালাল মোদী হঠাও দেশ বাঁচাও।"
সভায় বক্তব্য রাখেন বিষ্ণুপুর সাতগাছিয়া লোকাল কমিটির অন্যতম সদস্য কমরেড দিলীপ পাল, এ আই সি সি টি ইউ রাজ্য নেতা কিশোর সরকার, সি পি আই (এম এল) লিবারেশনের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য নবকুমার বিশ্বাস। পথসভায় শ্রমজীবী সাথীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামী কর্মসূচী হিসাবে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর একটি মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬/০৯/১৮-তারিখে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার লোকাল কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সদস্য কমরেড ব্রজেন সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গণেশ সরকার, ভগত পাল, সুশীলা রায়,যতীন মার্ডী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে উপস্থিত প্রতিনিধিগণ ফ্যাসিবাদ-দাঙ্গাবাজ বিজেপি ও রাজ্যের স্বৈরাচারী টিএমসি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং আমাদের পার্টির কাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শপথ গ্রহণ করেন। সম্মেলনে সম্পাদকীয় প্রতিবেদন এর ওপরে ৯-জন সদস্য তাঁদের বক্তব্য পেশ করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ব্রজেন সরকার, গণেশ সরকার, ভগত পাল ও যতীন মার্ডী, ও সুশীলা রায়। কমরেড সুশীলা রায়ের জ্বালাময়ী বক্তব্য উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। সম্মেলনে পুরনো কমিটি ভেঙে ছোট্ট করে পাঁচ জনের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। কমরেড যতীন মার্ডী পুনরায় সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এখানে লক্ষ্যণীয় সম্মেলনের শেষে পাঁচ জনের এক যুবদল পার্টির রাজনীতিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং দীর্ঘ সময় নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর বেহালার ঠাকুরপুকুর নিবাসী পার্টি সদস্য কমরেড গব্বর আলি চুয়াত্তর বছর বয়সে প্রয়াত হলেন। সত্তরের দশক থেকেই নকশালবাড়ি আন্দোলনে প্রভাবিত হয়ে যুক্ত হয়ে পড়েন। মূলত যোগাযোগ ও গোপন পার্টির আশ্রয়ের ব্যবস্থাপনায় যুক্ত থাকতেন। ১৯৯২সালের বাবরি মসজিদ ভাঙার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলনের সময় প্রকাশ্যে পার্টির গণ কার্যকলাপের সাথে যুক্ত হন ও এলাকায় সংগঠন গড়ার কাজে হাত লাগান।"অপারেশন সানশাইন "চলাকালীন ঠাকুরপুকুর বাজারের হকার উচ্ছেদ হলে "ঠাকুরপুকুর বাজার হকার ইউনিয়ন" গঠন করে গণআন্দোলন গড়ে তুলে উচ্ছেদ রুখে দেন। সেই বাজার আরও অনেক বড়ো হয়ে আজও টিকে আছে এবং আজও ইউনিয়ন রেজিস্ট্রিভুক্ত রয়েছে। এলাকায় পার্টি ব্রাঞ্চ গড়ে তুলেছিলেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ দুবছর চলাফেরা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কঠিন দারিদ্র্যের মধ্যে কাটিয়ে মধুমেহ রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর অসুস্থ স্ত্রী ও তিন কন্যাকে রেখে শেষ পর্যন্ত জীবন সংগ্রামের শেষ লড়াইয়ে তিনি হার মানেন। কমরেড গফ্ফর আলি লাল সেলাম ।
২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বেলঘরিয়া, ইসলামপুর দারিভিট বিদ্যালয়ের ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে আইসা, আরওয়াইএ, এসএফআই ও ডিওয়াইএফআই যৌথ কর্মসূচি পালন করে। প্রায় শতাধিক ছাত্র-যুবদের দৃপ্ত মিছিল এম বি রোড হয়ে ফিডার রোড পর্যন্ত যায়। তারপর রথতলা বি টি রোড কিছুক্ষণের জন্য অবরোধ করা হয়। শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ানোর মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর, কলকাতা শিয়ালদহ বিজেপি-আর এস এসের বিভাজনের বনধকে প্রত্যাখ্যান করে এআইসিসিটিইউ অনুমোদিত 'পশ্চিমবঙ্গ সংগ্রামী রন্ধন কর্মী (মিড-ডে-মিল) ইউনিয়ন'র প্রায় তিনশত সংগ্রামী মহিলা রন্ধন কর্মী সমাবেশে অংশ নেন।
২৫ সেপ্টেম্বর সকালে কমরেড সফদার আকুঞ্জি বাইকে চেপে শ্রীরামপুরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে আলীনগর-সুগন্ধার মাঝে পথ দুর্ঘটনায় প্রয়াত হয়েছেন। গোস্বামী মালিপাড়া অঞ্চলে পার্টি সংগঠনের বিস্তারের কালে সফদারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সিপিআই(এমএল) হুগলী জেলা কমিটি সফদার আকুঞ্জির আকস্মিক এই দুঃখজনক মৃত্যুতে মর্মাহত ও তাঁর পরিবারের শোকের অংশীদার।