রন্ধনকর্মী ইউনিয়নের ওয়ার্কশপ হুগলীতে

mid day

রন্ধনকর্মীদের বিভিন্ন দাবিতে গত ২৯ আগস্ট কলকাতায় রন্ধনকর্মী (মিড ডে মিল) ইউনিয়ন এর বিক্ষোভ সমাবেশে ভালো সংখ্যায় সামিল হয়েছিলেন হুগলীর রন্ধনকর্মীরাও। এর ফলো-আপ হিসেবে জেলায় ১৫ সেপ্টেম্বর একটি ওয়ার্কশপ করা হয়। কলকাতা সমাবেশের প্রস্তুতি পর্বে নতুন নতুন জায়গায় যে প্রচার চালানো হয়েছিল তার মধ্য দিয়ে কয়েকটি নতুন স্কুলের কর্মীদের এই বৈঠকে আনা সম্ভব হয়। ফলে উপস্থিতি ১০০ ছড়িয়ে যায়। তাঁরা সকলেই ইউনিয়নের সদস্যভুক্ত হয়েছেন।

ওয়ার্কশপে আলোচনার বিষয় ছিল দুটি। আলোচনা শুরু করেন চৈতালি সেন এবং অন্যরা তাতে অংশ নেন। প্রথম বিষয়টি ছিল ইউনিয়নের বিস্তার সম্পর্কে। কাছাকাছি গ্রামে এমনকি শহরেও যাতে আরও নতুন স্কুলের কর্মীদের ইউনিয়নে আনা যায় সেজন্য পরিকল্পনা করা হয়। কাজটা একটু বিস্তার করে নিয়ে ডিসেম্বরে জেলা সম্মেলনের সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনার মধ্যে দিয়ে এই উপলব্ধিই বেরিয়ে আসে যে, হুগলি জেলায় দশ বছর ধরে যে কাজ আমরা জোয়ার-ভাঁটার মধ্যে দিয়ে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে গিয়েছি, তার ফলেই আমরা কিছুটা এগোতে পেরেছি। অন্যান্য জেলাতেও অগ্রগতি হচ্ছে। ফলে সমাবেশ খুব ভালো হয়েছে। কিন্তু ইউনিয়নের শক্তি আরও অনেকটা বাড়াতে পারলে তবেই মূল দাবিগুলো আদায় করার জন্য আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারা যাবে। তাই এ কাজে আরও জোর দিতে হবে। দ্বিতীয় বিষয় ছিল, বর্তমান রাজ্য ও জাতীয় পরিস্থিতিতে শ্রমজীবী মহিলাদের অবস্থা ও নারী আন্দোলনের গুরুত্ব। নিজেদের রুটি-রুজির কথা ছাড়াও রন্ধনকর্মীরা যে মোদী সরকারের অত্যাচার সম্পর্কে সচেতন, সেকথা আলোচনার মধ্যে দিয়ে উঠে আসে। যেমন, তিন তালাক আইনের গলদ, ভিড়ের হিংসা, মুসলিমদের ওপর অত্যাচার প্রশ্নে মুসলিম মেয়েরা বলেন, আমরা তো এদেশেরই মানুষ, তবে কেন আমাদের ওপর এভাবে অত্যাচার হবে? এনআরসি নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন এবং এখন থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র জোগাড় করার চেষ্টা শুরু করেছেন।

আজ মোদী জমানায় গোটা দেশে মেয়েদের ওপর যেভাবে আক্রমণ বেড়ে চলেছে সে সম্পর্কেও কথা হয়। সকলেই মন দিয়ে শোনেন এবং নিজেদের কথা বলেন। বোঝা যায়, বঞ্চিত শোষিত শ্রমজীবী আর অবহেলিত নিপীড়িত নারী — উভয় সত্তা একাকার হয়ে আছে রন্ধনকর্মীদের মধ্যে। তাই তাঁরা সকলেই সাগ্রহে মহিলা সমিতির সদস্য পদ নেন। অনেকে এমনকি নিজের নিজের গ্রামে সদস্য করার আগ্রহ দেখান। তাঁদের মাধ্যমে কাজের পুরনো এলাকার বাইরে গণসংযোগ ও প্রচার করার সুযোগ বেড়ে চলেছে এবং ট্রেড ইউনিয়ন ও মহিলা সমিতি উভয়েরই বিস্তার ঘটাতে পারবো বলে আশা করা যায়।

খণ্ড-26
সংখ্যা-29
19-09-2019