সংঘীদের হামলা রুখে দিল স্বতস্ফূর্ত ক্ষোভ

বারাসাতে কালীপুজো উপলক্ষে প্রগতিশীল বইয়ের স্টল দেওয়া বামপন্থী দলগুলোর বহু বছরের রেওয়াজ। বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আরএসএস-ও বই বিক্রির ছাতা খুলতে শুরু করেছে। শহরের কলোনি মোড়েই বই স্টলের বেশি চল। এবার পুজোর দিন রাত্রে আরএসএস স্টল থেকে হঠাৎ কিছু ছেলে বেরিয়ে গিয়ে এক বাবা ও ছেলেকে মারতে তেড়ে যায়। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিবাদ-প্রতিরোধের মুখে পড়ে। রুখে দাঁড়ান সমবেত প্রগতিবাদী ও যুক্তিবাদী কর্মীরা। সিপিআই(এমএল) স্টল কর্মীরাও ছুটে যান এবং প্রতিরোধ করেন। পুলিশ চলে আসে। অগত্যা সংঘীরা নিবৃত্ত হয়। ঘটনার ছুতো হল, স্থানীয় পাড়ার এক কলেজ ছাত্র কদিন আগে দুর্গা প্রতিমা নিয়ে ফেসবুকে কিছু ভাবপ্রকাশ করে, তারপর থেকে তার চেনা আরএসএস-এর ছেলেরা সমানে ঐ ছাত্রটিকে ফেসবুকে হুমকি দিতে থাকে। ছেলেটি ও তার বাবা যুক্তিবাদী মননের অনুগামী। তারা মুখোমুখি কৈফিয়ৎ চান হুমকি দেওয়া হচ্ছে কেন? তখন হামলাবাজরা মিথ্যা চেঁচাতে থাকে ‘মা দুর্গাকে পতিতা বলা হয়েছে’, ‘নকশাল করা ঘুচিয়ে দেব’। আরএসএস যেভাবে প্রশিক্ষিত করে সেভাবেই সংঘী ছেলেরা মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়। কিন্তু তাদের কৌশল ভেস্তে যায়। সিপিআই(এমএল) স্টল কর্মীরা সিদ্ধান্ত নেন পরের দিন বেশ ভিড় জমাতে হবে। সেইমতো শক্তি প্রদর্শন হয়। যদিও সংঘীরা গন্ডগোল আর পাকায়নি। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে, যেখানেই সংঘীরা বেয়াদপি দেখাবে সেখানেই রুখে দাঁড়াতে হবে, পাল্টা প্রচার ছড়িয়ে দিতে হবে।

খণ্ড-26
সংখ্যা-34
31-10-2019