শেখ আবদুল্লা ও অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল কাশ্মীর উপত্যকা

J&K

দেশভাগের সময় গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের একের পর এক এলাকা দেখেছে দাঙ্গা, হিংসা, ধ্বংস, রক্তপাত। কিন্তু উত্তেজনাময় সেইসব দিনগুলিতেও কাশ্মীর উপত্যকা ছিল মূলগতভাবে অসাম্প্রদায়িক। কাশ্মীরের এই চরিত্র গত শতকের আশির দশকের প্রথম দিকেও অম্লান ছিল। অন্যদিকে এই উপমহাদেশের মধ্যে প্রথম প্রগতিশীল ভূমিসংস্কার কর্মসূচী রূপায়িত হয়েছে কাশ্মীরেই। কাশ্মীরের এই প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারী ছিলেন শেখ আবদুল্লা।

তরুণ শেখ আবদুল্লাকে নিয়ে সপ্রশংস ছিলেন জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী স্বয়ং। তার বন্ধু জহরলাল নেহরু মনে করতেন কাশ্মীর আর ভারতের মধ্যেকার বন্ধনের প্রধান সূত্র এই শেখ আবদুল্লা। অত্যন্ত জটিল এক সন্ধিক্ষণে কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের জন্য তার ওপরেই একমাত্র ভরসা করা যায় বলে মনে করেছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ বা চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারির মতো বিশিষ্ট নেতারা। এসবের কারণ জানতে হলে আমাদের জানতে হবে এই মানুষটির চিন্তাভাবনা, লড়াই ও কর্মপদ্ধতির বিশিষ্টতাকে। আজকে কাশ্মীর উপত্যকা অঞ্চল এবং তার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক যে জটিল জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেই প্রেক্ষাপটে এই জানা বোঝাটা খুবই জরুরী।

ব্রিটিশ ভারতে রাজন্য শাসিত এলাকা কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং সিংহাসনে বসে ছিলেন ১৯২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। মুম্বাইয়ের রেসের মাঠে এবং তার নিজের রাজ্যের বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধ বিশাল জঙ্গলগুলোতে শিকার করেই তার বেশিরভাগ সময় কাটতো। এই সময় কাশ্মীর উপত্যকায় রাজনৈতিকভাবে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন শেখ আবদুল্লা। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে পাশ করেও তিনি কোনও সরকারি চাকরি পাননি, একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার কাজ করতেন। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। তার বাগ্মীতার জন্য তিনি তার এলাকায় প্রশংসিত ছিলেন। সেই সময় কাশ্মীরের মুসলিমরা সরকারী চাকরি সহ নানা ক্ষেত্রে যে বঞ্চনার শিকার হতেন, শেখ আবদুল্লা নিজেও যার শিকার ছিলেন, তাই নিয়ে ক্ষোভ বিক্ষোভ ভাষা পায় শেখ আবদুল্লার বক্তৃতা ও আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে। ১৯৩১ সালে একটি মুসলিম প্রতিনিধি দলের সদস্য নির্বাচিত হন শেখ আবদুল্লা। এই দলটি আশা করেছিল মহারাজা হরি সিং এর কাছে তারা তাদের বক্তব্য পেশ করতে পারবেন। কিন্তু মহারাজ হরি সিং এর সঙ্গে দেখা হওয়ার আগেই তাদের দলের এক সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং তাতে ১৫ জন মারা যান। এই ঘটনার ফলে উপত্যকায় শুরু হয়ে যায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। এর ঠিক পরের বছর ১৯৩২ সালে মহারাজা হরি সিং এর প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান বিরোধিতাকে রূপ দেবার জন্য তৈরী হয় নিখিল জম্মু কাশ্মীর মুসলিম অধিবেশন। এর দুই প্রধান নেতা ছিলেন শেখ আবদুল্লা আর বিশিষ্ট আইনজীবী গুলাম আব্বাস। ১৯৩৮ সালে এই সংগঠনের নতুন নাম হয় ন্যাশনাল কনফারেন্স। শুধু নামকরণে যে বদল হয়েছিল তা নয় আসলে এই সংগঠনটি চাইছিল শুধু মুসলিম আইডেন্টিটির বাইরে বেরিয়ে এসে একটি অসাম্প্রদায়িক ধরনের সংগঠন হয়ে উঠতে; হিন্দু এবং শিখদেরও সামন্ত রাজার বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে সংগঠিত করতে। এই সময় শেখ আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং গভীর বন্ধুত্ব হয় জহরলাল নেহেরুর। দুজনেই হিন্দু মুসলিম সম্প্রীতি এবং সমাজতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধ ছিলেন এবং সেখান থেকেই তাদের বন্ধুত্ব নিবিড় হয়েছিল। এই বন্ধুত্বের সূত্র ধরে ন্যাশনাল কনফারেন্স আর ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যেও ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। অবশ্যই এই ঘনিষ্ঠতা ন্যাশনাল কনফারেন্সের বেশ কিছু মানুষজন মেনে নিতে পারেননি। অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য গুলাম আব্বাসও এটা মানতে পারেননি। তিনি এবং তার অনুগামীরা ন্যাশনাল কনফারেন্স থেকে আলাদা হয়ে গিয়ে শুধুমাত্র কাশ্মীরী মুসলমানদের নিয়ে আলাদা নতুন দল করতে চাইলেন আর শেখ আবদুল্লার নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কনফারেন্স হিন্দু মুসলিম এবং শিখ ধর্মের মানুষের একটি অসাম্প্রদায়িক চরিত্র নিয়ে এগিয়ে চলতে চাইল। ভূমি সংস্কারের মতো প্রগতিশীল বিষয় হল তাদের অন্যতম অ্যাজেন্ডা।

দেশভাগের সময় কাশ্মীরের মহারাজা হরি সিং ভারত পাকিস্থান কোনও ডোমিনিয়নেই যোগ না দিয়ে প্রথমে স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৭ এর সেপ্টেম্বরে কাশ্মীরের বাইরে থেকে আসা হানাদারদের সশস্ত্র আক্রমণের মোকাবিলায় তিনি ভারতের সাহায্য চান ও বিশেষ কিছু মর্যাদাসহ ভারতীয় ডোমিনিয়নে কাশ্মীর সংযুক্ত হয়। হানাদারদের সাথে যুদ্ধ থেমে খানিকটা স্থিতাবস্থা এলে কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারগুলোর দিকে এ সময় নজর ফেরানো হয়। কাশ্মীরের নতুন প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্সের অবিসংবাদী নেতা শেখ আবদুল্লার নেতৃত্বেই এই পুনর্গঠনের কাজ হয়েছিল।  হরি সিং-কে একটি চিঠি লিখে শেখ আবদুল্লাকে কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী করার পরামর্শ দিয়েছিলেন জহরলাল নেহেরু। সেই চিঠিতে নেহেরু লিখেছিলেন – কাশ্মীরে যদি এখন যদি কাজের লোক কেউ থেকে থাকেন তো তিনি হলেন শেখ আবদুল্লা। স্পষ্টতই তিনি এখন কাশ্মীরের প্রধান জনপ্রিয় ব্যক্তি। সংকটকালে যেভাবে এগিয়ে এসে তিনি সমস্যার টুটি চেপে ধরলেন তা থেকে মানুষটি কোন ধাতুতে তৈরি তা বোঝা যায়। তার সততা আর  মনের ভারসাম্য সম্পর্কে আমি অতি উচ্চ ধারণা পোষণ করি। তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার কাজে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। হতে পারে ছোটখাট ব্যাপারে তিনি অনেক ভুল করবেন, কিন্তু আমার ধারণা প্রধান প্রধান বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে তিনি নির্ভুল বলেই গণ্য হবেন।

শেখ আবদুল্লা প্রসঙ্গে কেবল জহরলাল নেহেরুই নন, মহাত্মা গান্ধীও একই রকম উচ্চ ধারণা পোষণ করতেন। দিল্লিতে একটি সভায় গান্ধীজি শেখ আবদুল্লাকে নিয়ে যান। সভাটি ছিল শিখ ধর্মের প্রবর্তক গুরু নানকের জন্মদিন উপলক্ষ্যে। সেখানে শ্রোতাদের সঙ্গে শেখ আবদুল্লার পরিচয় করিয়ে দিয়ে গান্ধী বলেন – শেখ সাহেব কাশ্মীর সিংহ নামে পরিচিত। তিনি একজন খাঁটি মুসলমান। তবে তিনি কাশ্মীরের অন্য দুপক্ষেরও মন জয় করে নিয়েছেন। শিখ হিন্দু মুসলমান এই তিন দলের মধ্যে যে আদৌ কোনো বিভেদ আছে তা তিনি ভুলিয়ে দিয়েছেন। হিন্দু আর শিখরা তার কথা শুনেছে। এখন মুসলমান, হিন্দু আর শিখরা এককাট্টা হয়ে কাশ্মীরের অপরূপ উপত্যকাটিকে রক্ষা করার কাজে নেমেছেন। মহাত্মা গান্ধী আর জহরলাল নেহেরু উভয়ের কাছেই শেখ আবদুল্লা হয়ে উঠেছিলেন নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার ঊর্ধ্বে থাকা এক ব্যক্তির প্রতীক। বিপরীতে পাকিস্তানের শাসকরা শেখ আবদুল্লাকে নীচু নজরেই দেখত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী শেখ আবদুল্লাকে বর্ণনা করেছিলেন কুইসলিং অর্থাৎ বিশ্বাসঘাতক বলে।

যখন রাষ্ট্রসঙ্ঘে কাশ্মীর নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে সে সময় রাষ্ট্রসংঘ কাশ্মীর বিষয়ক এক বিশেষ কমিশন গঠন করেন। তার সদস্যরা দিল্লী এবং কাশ্মীরের বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখেন। কাশ্মীরে তাদের অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লা। শেখ আবদুল্লা এই সময় সাগ্রহে কাশ্মীরের সঙ্গে ভারতের বন্ধনের ওপর জোর দিতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালের মে মাসে তিনি শ্রীনগরে সপ্তাহব্যাপী এক স্বাধীনতা উৎসবের আয়োজন করেন। ভারত সরকারের বড় বড় নেতারা সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন। এই সময় ভারতের স্বাধীনতা লাভের প্রথম বার্ষিকীতে মাদ্রাজের নামকরা সাপ্তাহিক স্বতন্ত্র পত্রিকাতে শেখ আব্দুল্লাহ একটি বার্তা পাঠান। সেখানে উত্তর আর দক্ষিণকে, পাহাড় আর উপকূলকে, সর্বোপরি কাশ্মীর আর ভারতকে ঐক্যবদ্ধ করার বাসনা তিনি ব্যক্ত করেন। এই বার্তায় তিনি লিখেছিলেন এমন একদিন আসবে যখন আমাদের দেশের বিস্তার বোঝাবার জন্য আমরা কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা – এই শব্দগুচ্ছটি ব্যবহার করব।

ভারতের সঙ্গে এই ঐক্যের আগ্রহের পাশাপাশি পাকিস্তানকে এক বিবেকবোধহীন বর্বর শত্রু বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাকিস্তানকে শেখ আবদুল্লা একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র বলে মনে করতেন এবং বলতেন মুসলিম লীগ কখনোই জনমুখী নয়, রাজন্যমুখী। এই সময় কাশ্মীরের আলাদা অঞ্চল হিসেবে স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি মনে করেছিলেন সেটা কার্যকর রাখা যাবে না, কেননা কাশ্মীর রাজ্যটা খুব ছোট এবং খুব দরিদ্র। আর সেরকম কিছু করার চেষ্টা হলেও পাকিস্তান তাকে গিলে ফেলার জন্য প্রস্তুত। একবার তারা সে চেষ্টা করেছে, পারলে আবারও করবে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাশ্মীরের পুনর্গঠন এর ক্ষেত্রে শেখ আবদুল্লা সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন ভূমি সংস্কার তথা জমি পুনর্বণ্টনের প্রক্রিয়াটির ওপরে। এর আগে কাশ্মীরে অল্প কিছু হিন্দু এবং মুসলিম পরিবারের হাতে বিশাল বিশাল জমিজোত কেন্দ্রীভূত হয়ে ছিল। আর গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সেখানে শ্রমিক হিসেবে বা স্বেচ্ছা-রায়ত হিসেবে কাজ করত। শেখ আবদুল্লার শাসনের প্রথম বছরে চল্লিশ হাজার একর উদ্বৃত্ত জমি ভূমিহীনদের মধ্যে বন্টন করা হয়। কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ আবদুল্লা সেখানে অনুপস্থিত মালিকানা বেআইনি বলে ঘোষণা করেন। স্বেচ্ছা রায়ত বা ভাগচাষিদের প্রাপ্য শস্যভাতার পরিমাণ ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা হয়। সমস্ত কৃষকঋণ মুকুব বলে ঘোষণা করেন শেখ আবদুল্লা। জমির মালিকদের তার সরকার কোনো ক্ষতিপূরণ দেননি। বস্তুতপক্ষে এই গোটা সংস্কার প্রক্রিয়াটাই ছিল অত্যন্ত বৈপ্লবিক এবং কাশ্মীরের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। শেখ আবদুল্লার এই সমস্ত নীতিমালাই কাশ্মীর উপত্যকায় তার জনপ্রিয়তাকে তুঙ্গস্পর্শী করে তুলেছিল।

শেখ আবদুল্লা বুঝেছিলেন কাশ্মীরের নিজস্ব ঐতিহ্য, জনবিন্যাসের বিশিষ্টতা, পার্শ্ববর্তী পাকিস্থান রাষ্ট্রের হানাদারদের মদত, চোরাগোপ্তা আক্রমণ এবং কিছু বিশেষ শর্ত সাপেক্ষে ভারতীয় ডোমিনিয়নে তার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্দিষ্ট ইতিহাসের নিরিখে কাশ্মীর ও ভারতের বন্ধনকে দৃঢ় করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কিছু সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রয়োজন। এই রূপরেখাটি স্পষ্ট করার জন্য ১৯৫২ সালের জুলাই মাসে কাশ্মীর প্রশ্নে ন্যাশানাল কনফারেন্স ও ভারত সরকারের মধ্যে দিল্লি চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তি অনুসারে ঠিক হয় যে কাশ্মীরিরা ভারতের পূর্ণ নাগরিক বলে স্বীকৃতি পাবেন এবং অনেক বেশি মাত্রার স্বশাসন ভোগ করবেন। কাশ্মীরের নতুন যে পতাকার পরিকল্পনা করেছিল ন্যাশনাল কনফারেন্স, কাশ্মীর জুড়ে জাতীয় পতাকার পাশেই তা শোভা পাবে। শ্রীনগরের সম্মতি না নিয়ে দিল্লি অভ্যন্তরীণ গোলযোগের জন্য বাহিনী পাঠাতে পারবে না। কাশ্মীর উপত্যকার জনতাত্ত্বিক চেহারা অবিকৃত রেখে এখানকার নাগরিকদের ভরসা দেওয়ার জন্য নিয়ম করা হয় এই রাজ্যের বাইরের কোনো লোক এই রাজ্যের মধ্যে কোনোরকম জমি বা সম্পত্তি কিনতে পারবে না।

কাশ্মীর এবং ভারতের বন্ধনকে দৃঢ় রাখার জন্য অসাম্প্রদায়িক মনোভাবকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা, প্রগতিশীল জনমুখী নানা কর্মসূচীর পাশাপাশি কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে ভরসা জাগানোর জন্য কিছু স্বশাসনের সুরক্ষা কবচের দরকার ছিল। সেই পথে এগোনোর পরিকল্পনাই শেখ আবদুল্লা সামনে এনেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর সেই রূপরেখাটি, ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ নং ধারায় যা প্রতিফলিত হয়েছিল, সেটাই ছিল গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভারত ও কাশ্মীরের বন্ধনের সবচেয়ে বাস্তবঘনিষ্ট রাস্তা। পরবর্তীকালে সেখান থেকে সরে আসার চেষ্টা ও কাশ্মীরের স্বশাসনের দিকগুলিকে ধারাবাহিকভাবে খর্ব করে অতি কেন্দ্রিকতার দিকে রাষ্ট্রের ঝোঁক শুধু শেখ আবদুল্লাকে গ্রেপ্তার করার ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, কাশ্মীর সমস্যাকেই ক্রমশ জটিল করেছে।

খণ্ড-26
সংখ্যা-28
12-09-2019