গোন্দলপাড়া জুটমিলের শ্রমিক মহল্লায় আইসা কর্মীরা

goldapara

হুগলীর চন্দননগরের বন্ধ পড়ে থাকা গোন্দলপাড়া জুটমিলের শ্রমিক মহল্লায় আইসার পক্ষ থেকে যাওয়া হয়। ইতিমধ্যেই মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে ওখানে ঘটে গিয়েছে দু’জন শ্রমিকের আত্মহত্যা। তারপরেই আতান্তরে থাকা শ্রমিক পরিবারগুলোকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিজেপি আর তৃণমূলের দড়ি টানাটানি, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর অসহযোগিতা। এই অবস্থায় সিপিআই(এমএল)-এর তরফ থেকে ইতিমধ্যেই ওখানে দু/তিনবার ধারাবাহিকভাবে যাওয়া হয়েছে এবং শ্রমিকদের সাথে কথাবার্তার সূত্রেই ওঁদের পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের সাথে কমরেডদের আলাপ হয়। পার্টি কমরেডদের সাথে নিয়েই ছাত্ররা গিয়েছিলেন ওখানে। স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসে সঞ্জয়, খুশি, সোনিয়া, মিঠুন, রাজকুমাররা যেন ক্ষোভের বাঁধ ভেঙে নিজেদের পড়াশোনা থেকে গোটা পরিবারের, মহল্লার নিদারুণ অনটনের কথা অনর্গল বলে চললো। ক্লাস এইট, নাইন, টেনের ছাত্রছাত্রী বেশি; আর কিছু উচ্চমাধ্যমিক ও গ্র্যাজুয়েশন ছাত্রছাত্রী। মেজাজ আর বডি ল্যাঙ্গোয়েজ দেখে মনে হচ্ছিল যে নেতা খুঁজতে কোথায় যাবো, চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে লড়াইয়ের উত্তরসূরীরা। ওদের সকলের বর্ণনা থেকে যা বেরোলো :

  • কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারগুলোর খাওয়া জুটছে আধপেটা, তাতে আর ছেলেমেয়ের স্কুল ও টিউশন ফি চালানো প্রায় অসম্ভব হচ্ছে, ফলে গোটা মহল্লায় প্রায় শ’খানেকের বেশি মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সদ্য পড়া ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
  • যারা পড়ছে তাদেরও স্বপ্ন ভাঙতে যেন উঠেপড়ে লেগেছে মিল মালিকপক্ষ কাজোরিয়া গোষ্ঠী, প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২.৩০টা ইলেকট্রিক কানেকশন কেটে দিচ্ছে মিল কর্তৃপক্ষ, ফলে বস্তির ঘুপচি অন্ধকার ঘরে মিনিমাম আলো পাখার অভাবে দিনের মূল পড়াশোনার সময়টাই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
  • এলাকার দুটো হিন্দী মাধ্যম সরকারী স্কুল তেলিনীপাড়ার মহাত্মা গান্ধী ও অন্য স্কুলটিতে ছাত্রছাত্রীর তুলনায় টিচার সংখ্যা বেশ কম আর স্কুলের সরঞ্জাম যখন তখন ভাঙা, চুরি হয়ে যায়।
  • মিড-ডে মিল চলছে কোনোরকমে, তারও জিনিসপত্র চুরি যায়। * পানীয় জল যেটা কোম্পানী দেয় তাতে অজস্র নোংরা পড়ে।
  • পৌরসভার হেলথ ডিপার্টমেন্ট থেকে দায়সারাভাবে খোঁজ নিতে আসে কিন্তু কোনো ওষুধপত্র দেয় না।

এরকম আরো নানা নেই রাজ্যে বড় হচ্ছে ওরা। দাবিদাওয়া গুলো নিয়ে দুর্গাপুজোর পরে এসডিও-র কাছে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ডেপুটেশন দেবে আইসা — এটাই সিদ্ধান্ত হল। খুশি, সঞ্জয়রা ডেপুটেশনের জন্য আমাদের তৈরি করা দাবিপত্রে এখন থেকেই পুরো শ্রমিক মহল্লা জুড়ে ছাত্রছাত্রীদের সই সংগ্রহ শুরু করে দেবেনিজেরাই। খুশির স্কুলে ফিজ মকুব করানো হয়েছে ইতিমধ্যেই পার্টির তৎপরতায়, ফলে পড়া আবার শুরু করবে ও। বাংলা ভালোই পড়তে পারে খুশি, ওকে আইসা-র আসন্ন হুগলী জেলা সম্মেলনের লিফলেট দেওয়া হল, নিজে পড়ে মহল্লার বন্ধুদের হিন্দীতে লিফলেটের বক্তব্য পুরোটা জানাবে ও। সকলেরই অভিভাবকরাও শুনছিল আমাদের কথা। এবার আসি ওদের সাথে আমাদের সেতুবন্ধনের আরো একটা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপের কথায় —

২৮ সেপ্টেম্বর শহীদ-এ-আজম কমরেড ভগৎ সিংয়ের জন্মদিনে বিকাল ৪ টায় শ্রমিক মহল্লার একটা ক্লাবঘরে ওদেরই ব্যবস্থাপনায় ওদের জন্য আইসা শুরু করতে চলেছে ফ্রি কোচিং ক্যাম্প। প্রথমদিন মাধ্যমিক স্তরের অঙ্ক আর ইংরাজি বিষয়ে কিছুটা আলোচনা হবে। ক্রমাগত ভূগোল, ইকনমিক্স, পলিটিক্যাল সায়েন্স, এডুকেশন, ইতিহাস সব বিষয়েই শিক্ষক দেওয়ার চেষ্টা হবে। হিন্দী মাধ্যমে পড়াতে হবে এই ব্যাপারে আইসার ও পার্টির যে কোনো জায়গার পড়াতে আগ্রহী কমরেডরা বা আপনাদের পরিচিত কোনো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক/ শিক্ষিকা বা সামাজিক কাজে আগ্রহী কেউ থাকলে খুব তাড়াতাড়ি আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন নীচের নাম্বারে :

৮৭৭৭০৮৮২৯০

খণ্ড-26
সংখ্যা-30
26-09-2019