অবরুদ্ধ কাশ্মীরের এক মাস : নৈঃশব্দ ও প্রতিরোধ

kashmir

শ্রীনগরের শুনশান লাল চক। বন্ধ দোকান-পাট, যানবাহন নেই। ইদুজ্জোহার আগের শেষ শুক্রবারের পড়ন্ত বিকেলে ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এক মৃত নগর। এই প্রায় জনমানবহীন রাস্তায় দাঁড়িয়ে দিল্লি থেকে ‘গ্রাউন্ড জিরো’ তে আসা এক সাংবাদিক এবং এক ‘স্থানীয়’। কাশ্মীরের ‘স্বাভাবিকতা’ দেখে সাংবাদিক উচ্ছ্বসিত। মাইক ধরেন ‘স্থানীয়ের’ মুখে। মানুষটি নাকি ফিরছেন নমাজ শেষে। সাংবাদিক যাই প্রশ্ন করেন মানুষটি জবাব দেন, “সব ঠিক”। পুরো কথপোকথনে তাঁর ঠোঁট থেকে ভুলেও মুছে যায়না আকর্ণবিস্তৃত হাসি। ‘গ্রাউন্ড জিরোর’ রিপোর্টশেষ হয় টহলরত এক জওয়ানের সঙ্গে স্থানীয় মানুষটির দৃঢ় আলিঙ্গনের দৃশ্য দিয়ে। তখনও তাঁর মুখ থেকে হাসি মুছে যায়নি। এই হাসি তাঁর বর্ম এবং কাশ্মীরের শান্তির শংসাপত্র। সাংবাদিক তাঁর দর্শকদের নিশ্চিন্ত করেন, কাশ্মীর ‘স্বাভাবিক’ ও ‘শান্ত’ আছে।

৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদীর সরকার সংসদে জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর রিঅর্গ্যানাইজেশন বিল নিয়ে আসার আগে থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে এক অলিখিত জরুরী অবস্থা চলছে। অথচ ভারতীয় সংবাদমাধ্যম লাগাতার এইরকম নানা ছবির মাধ্যমে স্বাভাবিকতার এক দৃশ্যশ্রাব্য আখ্যান গড়ে তোলে। সেই আখ্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, আমরা ডুবে যাই জাতীয়তাবাদী পরিতৃপ্তিতে।

এরপর এক মাস অতিক্রান্ত। এতদিনে পরিতৃপ্তির সঙ্গে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত দৃশ্যশ্রাব্যময়তার অবধারিত ক্লান্তি। একদিকে কাশ্মীরে ‘শান্তির’ সরকারি বিজ্ঞপ্তির নিরন্তর প্রচার, অন্যদিকে কাশ্মীরের হাল-হকিকতের খবর আস্তে আস্তে কমিয়ে দেওয়া – এই দুইয়ের মাধ্যমে কাশ্মীরকে ‘স্বাভাবিক’ করা হচ্ছে না, কাশ্মীরে গণতন্ত্র আর মানবাধিকারের হত্যাকে স্বাভাবিক করে তোলা হচ্ছে আমাদের কাছে। মাঝখান থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছেন কাশ্মীরের মানুষ।

‘জাতীয়’ সংবাদমাধ্যম যে ফ্রেমে কাশ্মীরকে দেখতে ও দেখাতে পছন্দ করে তার একদিকে যুদ্ধ, অন্যদিকে শান্তি আর মাঝখানে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’। এখানে যুদ্ধ এবং শান্তি আপাত বিপরীত শব্দ হলেও আদতে পরস্পর-সম্পৃক্ত। যুদ্ধের ভয় সারাক্ষণ জাগিয়ে রাখাটা শান্তিপ্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। জোহান গ্যালটুং তাঁর ১৯৬৯ সালে লেখা বিখ্যাত গবেষণাপত্র “ভায়োলেন্স, পিস অ্যান্ড পিস রিসার্চ’’- এর এক্কেবারে গোড়াতেই বলছেন ‘শান্তি’র মতো এত বহুল ব্যবহৃত এবং অপব্যবহৃত শব্দ খুব কমই আছে কারণ এর মাধ্যমে সবরকম বিরুদ্ধ স্বরকে নস্যাৎ করে রাজনৈতিক একমত চাপিয়ে দেওয়া হয়। কেউই নিজেকে শান্তিবিরোধী হিসেবে দেখতে বা দেখাতে চায় না। ফলে ‘শান্তির’ নামে আর্থসামাজিক অসাম্য, চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বা প্রাতিষ্ঠানিক হিংসা জিইয়ে রাখা যায়। জম্মু ও কাশ্মীরে ভারত রাষ্ট্র দীর্ঘকাল এর সবকটি পদ্ধতিই প্রয়োগ করে এসেছে। কাশ্মীর প্রসঙ্গে ‘ডার্টি ওয়ার’ শব্দটি ব্যবহার হয়ে থাকে। এই নোংরা যুদ্ধে রাষ্ট্রশক্তির এক অন্যতম সহায়ক নৈঃশব্দ। কোনান-পোশপুরার মেয়েদের লাঞ্ছনা, হারিয়ে যাওয়া বহু যুবক, টর্চার সেন্টার, কাশ্মীরের বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অসংখ্য নামহীন কবর নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক নৈঃশব্দকে শান্তির পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হয়ে এসেছে।

বিগত এক মাস ধরে নরেন্দ্র মোদীর সরকার যা করছে কাশ্মীরে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের দীর্ঘ ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতেও তাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলা হচ্ছে। তবে অভূতপূর্বেরও পূর্বাপর আছে। প্রয়াত সাংবাদিক সুজাত বুখারি ২০১৭ সালেই লিখছেন যে ২০১৬-য় বুরহান ওয়ানির হত্যার পর থেকেই কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণের এক নতুন ভাষ্য গড়ে তোলা হয়েছে যাতে প্রতিপক্ষ আর তথাকথিত ‘মিলিট্যান্ট’ নয়, গোটা কাশ্মীরের জনগণ। ৫ আগস্ট থেকে এই ভাষ্য একরকম সর্বজনীন বৈধতা পেয়ে গেছে – তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ কাশ্মীরের মাসব্যাপী অবরোধ, হাজার হাজার মানুষের অবৈধ গ্রেপ্তারি, সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ অবশিষ্ট ভারতের চোখে ভয়াবহ বা লজ্জাজনক ঠেকছে না। প্রতিটি কাশ্মীরীই সম্ভাব্য অপরাধী তাই গোটা কাশ্মীরকেই কারাগার করে তোলা হয়েছে।

কারাগারের নৈঃশব্দ চুঁইয়ে আসা টুকরো খবরগুলি থেকে সামগ্রিক ভয়াবহতার কোলাজ তৈরি হয় :

  • বিবিসি এবং আল জাজিরা প্রথম রিপোর্ট করে সৌরায় প্রায় ১০,০০০ মানুষের বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের। এই সংক্রান্ত ১০ আগস্টের রিপোর্ট বলছে স্কুল বন্ধ, দোকান বন্ধ, শিশুখাদ্য ক্রমশ কমে আসছে, আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বাইরে বেরোতে হলে মানুষকে কারফিউ পাস দেখাতে হচ্ছে।
  • আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল জার্নাল ‘ল্যান্সেট’ তাদের সম্পাদকীয়তে কাশ্মীরের মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সেখানে দশকের পর দশক ধরে চলা হিংসার দীর্ঘকালীন কুপ্রভাবের কথা লিখেছে। তারা বলছে কাশ্মীরের অর্ধেক মানুষ প্রায় কখনোই সুরক্ষিত বোধ করেন না। যাঁদের পরিবারের কেউ হিংসার বলি হয়েছেন তাঁদের প্রতি পাঁচজনে একজন সেই মৃত্যুর প্রত্যক্ষ সাক্ষী। ‘ল্যান্সেট’ আশংকা প্রকাশ করে সাম্প্রতিক ঘটনাক্রমে এই হিংসার চক্র আরো প্রসারিত হবে।
  • কাশ্মীরের চিরাচরিত আইন-বহির্ভূত গ্রেপ্তার, আটকে রাখা, শারীরিক নিপীড়নের বাইরেও ৫ আগস্টের পরের তিন সপ্তাহে প্রায় ১,৫০০ জনকে স্রেফ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কয়েক ঘন্টা বা কয়েক দিনের জন্য ‘ডিটেন’ করা হয়, অবশ্যই কোনো কারণ না দেখিয়ে, আইন-শৃঙ্খলার সুমহান স্বার্থে। ‘দ্য হিন্দু’ জানাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন এই ‘রিভলভিং ডোর ডিটেনশনে’ নাকি নতুনত্বের আস্বাদ পেয়েছে।
  • শ্রীনগরের সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তার ওমর সেলিম সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেন – প্রতিবাদ নয়, প্রতিবিধানের জন্য। তিনি বলেন যাতায়াতের প্রতিবন্ধক, যোগাযোগ ও ইন্টারনেটবিচ্ছিন্নতা চিকিৎসায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। কেমোথেরাপি বা ডায়ালিসিসের মতো চিকিৎসা-পরিষেবা যা নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট মেনে করা দরকার তার প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না, অথবা রোগীরাই সময়ে হাসপাতালে পৌঁছতে পারছেন না, ফলে রোগীর প্রাণসংশয় ঘটছে। ওমরের কথার মাঝখানেই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে নেয়।
  • অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নেওয়া ৫০টি সাক্ষাৎকারে বারোটি গ্রামের মানুষ জানিয়েছেন ৫ আগস্টের পরে কোনো না কোনো সময়ে তাঁদের গ্রামে অতর্কিত মিলিটারি হানা হয়েছে। ক্যাম্পে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হয়েছে।
  • গার্ডিয়ান পত্রিকা ৪ঠা সেপ্টেম্বর সামরিক বাহিনীর তরফে লেফটেন্যান্ট জেনারেল কানওয়াল জিৎ সিং ধিল্লোকে উদ্ধৃত করে গত একমাসে অন্তত পাঁচটি অসামরিক মৃত্যুর খবর জানিয়েছে, যদিও ধিল্লো এটা জানাতে ভোলেননি যে প্রতিটি মৃত্যুর জন্য “সন্ত্রাসবাদী, পাথর ছোঁড়া বিক্ষোভকারী আর পাকিস্তানের হাতের পুতুলরা” দায়ী। মৃত্যু যতদিন সামনে না আসবে ততদিন সেই মৃত্যুর কোনো খতিয়ান নেই। সামনে চলে এলেই সেই মৃত্যু দেশদ্রোহীর, সুতরাং অবশ্যপ্রাপ্য।
  • এই মৃত্যুমিছিলের বাইরেও আর একটি মৃত্যু নিয়ে প্রশাসনের তরফে এক কুৎসিত টানাপোড়েন চলেছে। ১৭ বছরের কিশোর আসরার আহমেদ খান প্রায় এক মাস হাসপাতালে কোমায় আচ্ছন্ন থাকার পরে মারা যায়। পরিবারের মতে তার মৃত্যু প্রতিরক্ষাবাহিনীর ছোঁড়া পেলেটের আঘাতে হয়েছে। আসরারের ডেথ সার্টিফিকেটেও ‘পেলেট ইনজুরি’ আর ‘শেল ব্লাস্ট’-এর ক্ষতের উল্লেখ আছে। এই রিপোর্ট ওয়াশিংটন পোস্টে বেরোনোর পরে প্রথমে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল মুনির খান দাবি করেন আসরারের মৃত্যু টিয়ার গ্যাস শেলের জন্য নয় বিক্ষোভকারীদের ছোঁড়া পাথরে হয়েছে। কিন্তু তারপরে আসরারের সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট প্রকাশিত হওয়ার পরে পরিবর্তিত বয়ান আসে আসরার নিজেই পাথর ছোঁড়া বিক্ষোভকারীদের দলে ছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে আধাসামরিক বাহিনীকে ‘জরুরী পদক্ষেপ’ নিতে হয়েছিল।

সৌরার বিক্ষোভ এবং তার পুলিশি প্রতিক্রিয়া থেকে আরম্ভ করে আসরারের মৃত্যু – প্রতি ক্ষেত্রেই সরকারি প্রতিক্রিয়ার একটা চেনা নকশা তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনাই বিদেশী সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় কাশ্মীরি প্রতিবেদকরা রিপোর্ট করেছেন ( কোনো বিদেশী সাংবাদিক কাশ্মীরে যাওয়ার ছাড়পত্র পাননি)। রিপোর্টটি প্রথমে সরকারি স্তরে অস্বীকার করা হয়। সেই সরকারি অস্বীকৃতি দিনের পর দিন ধ্রুবসত্য হিসেবে বশংবদ মিডিয়া প্রচার করে। বেশ কিছুদিন পরে আলগোছে একটি সরকারি বয়ানে খবরের সত্যতা স্বীকার করা হয়, কিন্তু সেই স্বীকৃতি কোনো প্রচার পায় না, সাংবাদিকরা বয়ানের এই অসংলগ্নতা নিয়ে সরকারকে কোনো প্রশ্নও করেন না, কাশ্মীরী সাংবাদিকরা ভুল করে প্রশ্ন করে ফেললেও উত্তর পাননা। এই গোয়েবলিয়ান চক্র সত্য-মিথ্যার এক আলো-আঁধারি তৈরি করেছে যাতে কাশ্মীরের বাস্তবকে ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

রাষ্ট্রশক্তির উৎকট আগ্রাসন, ভণিতাহীন পেশিপ্রদর্শন, সর্বাত্মক যোগাযোগবিচ্ছিন্নতার মধ্যে কাশ্মীরের একমাত্র সত্য কি তাহলে অসহায়তা? স্বাভাবিক কাশ্মীর আর অস্বাভাবিক কাশ্মীরের মধ্যে কোথাও এখনো এক চিলতে প্রতিবাদী কাশ্মীর থেকে গিয়েছে। গণ-অসন্তোষ গণপ্রতিবাদ হয়ে উঠছে, কিন্তু আন্দোলনের গণতান্ত্রিক পরিসর পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সেই প্রতিবাদ অনেক সময়ই চোরাগোপ্তা, শৈল্পিক তার চলন।

‘দ্য প্রিন্ট’ ওয়েব পোর্টালে আজান জাভেদ লিখছেন সরকারি অবরোধ কাশ্মীরে নতুন নয়। অন্যান্যবার তার বিরুদ্ধে বনধের ডাক দেয় কোনো না কোনো রাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু এবারে বেশিরভাগ সংগঠনের নেতৃবর্গ এবং কর্মিরা জেলে। তাই সাধারণ মানুষ নিজেদের মতো করে প্রতিবাদের পথ খুঁজে নিয়েছেন, চলেছে গণ-অবরোধ, ‘পিপলস কারফিউ’। সরকারি নিয়ন্ত্রণ সাময়িক বা আঞ্চলিকভাবে কমানো হলেও মানুষ দোকানপাট বন্ধ রাখছেন, স্কুল খোলা হলেও ছাত্র যাচ্ছে না, বাজার খোলা হলেও মিলছে না খরিদ্দার। সরকারি মর্জিমাফিক স্বাভাবিকতার মুখোশ পরার অস্বীকৃতিই কাশ্মীরের প্রথম প্রতিরোধ।

কাশ্মীরে গণআন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাসে যে অঞ্চলগুলি সরকারি খাতায় ‘মার্কামারা’, যেমন ডাউনটাউন শ্রীনগর, সেইগুলিকে আষ্টেপৃষ্ঠে সামরিক-আধা-সামরিক ঘেরাটোপে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। সেই বজ্র আঁটুনির গেরো ফসকে শ্রীনগরের অন্যান্য কিছু অঞ্চলে স্থানীয় প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। যেমন সৌরা, যেখানে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন চলেছে। যেমন আঞ্চার। ‘গার্ডিয়েনের’ খবরে প্রকাশ ৩০ শে আগস্ট শ্রীনগরের আঞ্চারে প্রায় পাঁচ ঘন্টা ধরে প্রতিরক্ষাবাহিনীর ‘অপারেশন’ চলে – টিয়ার গ্যাস আর পেলেট গান চলে। এখানকার বাসিন্দারা মূলত পশমিনা শালের কারিগর। তাঁরা গর্ত খুঁড়ে, টিনের পাত, জঞ্জালের ড্রাম, কাঠ, পাথরের ব্যারিকেড তৈরি করে বাহিনীকে ঢুকতে দিচ্ছেন না। সারারাত অতন্দ্র পাহারা চলছে। মানুষ তাঁদের পরিবারসহ প্রতিরোধে অংশ নিচ্ছেন। কনসার্টিনা তারের জালে কাশ্মীরের মানচিত্রকে যখন তার ভূমিপুত্রদের কাছেই অচেনা করে তোলা হয়, তখন মানুষের হাতে তৈরি ব্যারিকেড দিয়ে কাশ্মীরিরা নতুন মানচিত্র গড়ে তুলছেন। এটা কেবল অস্তিত্বরক্ষার সংগ্রাম নয়, আত্মপরিচয়ের সংগ্রাম; ইতিহাস বিলুপ্তির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ।

খণ্ড-26
সংখ্যা-29
19-09-2019