Deshabrati
dddddcassdddd

যে তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকরা আন্দোলনরত, সুপ্রিম কোর্ট সেগুলোর উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও কৃষকদের মধ্যে  মধ্যস্থতার জন্য চার-সদস্যের একটি প্যানেল ঘোষণা করেছে।

একটি আইনকে স্থগিত বা সাময়িকভাবে মুলতবি রাখার ক্ষেত্রে, আদালতের রায়ে, আইনটি যে অসাংবিধানিক সে সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণ এবং তার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা প্রত্যাশিত। এই ধরনের পর্যবেক্ষণ ও যথেষ্ট বলিষ্ঠ যুক্তির অনুপস্থিতিতে কৃষি আইনগুলির উপর এই স্থগিতাদেশ প্রতিবাদী কৃষকদের ও ভারতের জনগণকে ভরসা যোগাতে পারছে না।

সত্যি বলতে কি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্যে একটা ইঙ্গিত বেশ স্পষ্ট যে কৃষি আইনের উপর এই স্থগিতাদেশের নিছক একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে মাত্র; এই রায় পর্যবেক্ষণ করেছে, “আমরা যখন একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে স্তব্ধ করে দিতে পারিনা, আমরা মনে করি যে কৃষি আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই অসাধারণ স্থগিতাদেশটি, অন্তত এই সময়ের জন্য, এই ধরনের প্রতিবাদের উদ্দেশ্যপূরণ হিসাবে উপলব্ধ হবে এবং কৃষক সংগঠনগুলিকে তাদের সদস্যদের, নিজেদের জীবন ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষা সহ অন্যদেরও জীবন ও সম্পদ রক্ষার উদ্দেশ্যে নিজের জীবিকায় ফিরে যাওয়ার জন্য বোঝাতে উৎসাহিত করবে।” রায়ের এই বয়ান থেকে এটা স্পষ্ট যে এই কৃষি আইনের উপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র কৃষকদের উদ্দেশ্য পূরণের একটা “উপলব্ধি” দেওয়ার জন্য যাতে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এটা সত্যিই সুপ্রিম কোর্টের জন্য একটা লক্ষণীয় এবং গভীর সন্দেহজনক বিষয় যে তারা সাংবিধানিক যুক্তিতে নয়, বরং একটি রাজনৈতিক যুক্তিতে একটা রায় দিল।

প্যানেলের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নির্বাচিত চার সদস্যের সকলেই হলেন সেই সব ব্যক্তি যারা প্রকাশ্যে এই কৃষি আইনগুলির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা প্রকাশ করেছেন। সুতরাং এই প্যানেল স্পষ্টভাবেই সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট এবং এমনকি আপাত-নিরপেক্ষও নয়। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিবাদী কৃষকদের মধ্যে এই প্যানেলের কোনো গ্রহণযোগ্যতা বা বিশ্বাসযোগ্যতা নেই এবং তারা এই প্যানেলের আলোচনা প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকার করেছেন।

ভারতের প্রধান বিচারপতির, আন্দোলন থেকে মহিলাদের দূরে রাখা নিয়ে মন্তব্যও অত্যন্ত আপত্তিকর। মহিলারা তাদের নিজেদের তাগিদে, নিজেদের ইচ্ছায় প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন — কোথায় এবং কখন তাঁদের প্রতিবাদ করা উচিৎ সে সম্পর্কে কারও কিছু বলার কোন অধিকার থাকতে পারে না।

তিনটি আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে আমরা কৃষক আন্দোলনের পাশে আছি।

চাষ বাঁচাও। রেশন বাঁচাও। দেশ বাঁচাও। সংবিধান বাঁচাও। প্রজাতন্ত্র দিবসে কৃষক মিছিলে এগিয়ে চলুন!

cccaiii

সারা ভারত কৃষক সংগ্রাম সমন্বয় সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী গ্রুপ ১২ জানুয়ারী প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে –

আমরা এখনো সুপ্রীম কোর্টের সম্পূর্ণ রায়টি হাতে পাইনি, তাই বিভিন্ন কোর্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের রিপোর্টিং এর উপর ভিত্তি করে আমাদের মতামত নিম্নলিখিত।  আমরা দেখলাম যে, মহামান্য আদালত দিল্লির বর্ডার থেকে সংগ্রামী কৃষকদের জমায়েত তুলে নেওয়ার বিষয়ে কোনো রায় দিতে রাজি হয়নি। আমরা এই বিষয়টিকে স্বাগত জানাই।একটি অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এই আইনগুলোর উপর স্থগিতাদেশ জারি করাকে আমরা স্বাগত জানালেও এটা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়, এবং কৃষকদের ও বিভিন্ন কৃষক সংগঠনগুলির দাবি সরকারকে এই আইনগুলি প্রত্যাহার করতে হবে। সরকারকে বুঝতে হবে ভারতের জনগণ এবং কৃষকরা এই আইনগুলির বিরোধিতা করছেন।

কৃষক সংগঠনগুলি খুব জোরের সাথেই বলছে যে, তারা আদালত দ্বারা গঠিত কোনো কমিটির সাথে আলোচনা করতে চায় না, কারণ এই কমিটির গঠন এবং সদস্যদের সম্পর্কে তাদের সন্দেহ আছে। এটা খুবই পরিষ্কার যে, আন্দোলনবিরোধী বিভিন্ন শক্তিগুলি, কমিটি গঠনের বিষয়ে আদালতকে ভুলভাবে প্রভাবিত করছে। কমিটিতে এমন লোক থাকছেন যারা এই তিনটি আইনের সপক্ষে সক্রিয়ভাবে সওয়াল করেছেন।

কৃষকরা সরকারকে বারবার বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে বলেছেন  কিভাবে এই তিনটি আইন কৃষিজাত পণ্যের প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারকে সরাসরি কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেবে। এটি উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেবে, কৃষকরা ঋণের জালে জর্জরিত হবে, ফসলের দাম কমিয়ে দেবে, কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, সরকারের দ্বারা কৃষকদের কাছ থেকে ফসল সংগ্রহ কমিয়ে দেবে, গণবন্টণ ব্যবস্থাকে শেষ করে দেবে, খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটাবে, কৃষকদের অনাহারে মৃত্যু ও আত্মহত্যার ঘটনা বাড়িয়ে তুলবে, কৃষকরা জমি থেকে উৎখাত হবেন। সরকার জনগণের কাছ থেকে এবং সর্বোপরি কোর্টের কাছ থেকে এই সত্যগুলো চেপে রাখতে চাইছে।

প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন পূর্বনির্ধারিত কিষাণ প্যারেড দিল্লিতে এবং সারা দেশে বড় মাত্রায় সংগঠিত হবে। সরকার এই বিষয়েও কোর্টকে বিপথে চালিত করতে চাইছে।

মূল দাবিগুলো নিয়ে কৃষকদের সংগ্রাম চলবে এবং পূর্ব নির্ধারিত সূচী অনুযায়ী ১৩, ১৮ ও ২৩ জানুয়ারী কর্মসূচী সংগঠিত হবে।

 

======================================================================================
দেশের শীর্ষ আদালত তিন কৃষি আইন পর্যালোচনা করে বিচার করার জন্য চারজনের যে নিরেপক্ষ কমিটি গঠন করেছিল তার মধ্যে ভূপেন্দ্র সিং মান ফুঁসে ওঠা কৃষক আন্দোলনের বিক্ষোভের মুখে পড়ে সেই কমিটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। ফলে কৃষক আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার সরকারি চক্রান্তের আইনি পথ অনেকটা ধাক্কা খেয়ে গেল। যদিও এই কমিটির চারজন সদস্যকেই ইতিপূর্বে মোদি সরকারের কৃষি আইনের গুণকীর্তন করতে শোনা গেছে।

==================================================================================

aaaadddd

অন্নদাতাদের সংহতিতে কলকাতার বুকে চলমান অবস্থানে যুক্ত হলো ব্যাপকতর নাগরিক সমাজ। আজ ষষ্ঠ দিন হয়ে গেলো রাজ্য রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলার বুকে চলছে দিল্লীর কৃষক আন্দোলনের সংহতিতে লাগাতার অবস্থান। এ রাজ্য আর দেশের রাজধানী অন্নদাতাদের প্রখর দাবিতে একই সুরে মিলে গেলো। অবস্থানে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা, কৃষক আন্দোলনের কর্মীদের উপস্থিতি জানান দিলো বাংলার কৃষকরা সারা দেশব্যাপী এই কৃষক আন্দোলনের সাথে আছে। পাশাপাশি এই অবস্থানে অংশগ্রহণ করলেন রাজ্যের গণআন্দোলনের বিভিন্ন নেতৃত্ব ও কর্মীবৃন্দ। শ্রমিক কর্মচারী থেকে শুরু করে ছাত্র- শিক্ষক-কবি-শিল্পী-বুদ্ধিজীবী-নারী আন্দোলনের কর্মী-সাংস্কৃতিক কর্মী, বিভিন্ন পত্র পত্রিকার সম্পাদক সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিক সমাজ। শিল্পীরা সংগ্রামের ছবি আঁকলেন,তথ্য চিত্র নির্মাতারা কৃষক আন্দোলনের ছবি প্রদর্শন করলেন। এইভাবে অবস্থান কর্মসূচীটি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন প্রতিবাদী শক্তির এক সমন্বয় মঞ্চ।

নয়া কৃষি আইনের ফলে কৃষি পণ্যের অভাবী বিক্রি, বিপরীতে বাজারে সেই পণ্যের চরম মূল্যবৃদ্ধি দূটোই একসাথে চলতে থাকবে এ রাজ্যের কৃষকরা তাদের জীবনের অভিজ্ঞতায় সেটা বুঝতে পেরেছেন। তারা ঠেকে শিখেছেন ঋণফাঁদে কিভাবে তারা জর্জরিত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউনের বাজারে সার ডিজেল বিদ্যুৎ এর মূল্যবৃদ্ধি  কৃষকদের সর্বনাশের পথে ঠেলে দিয়েছে। কিভাবে ধানের সরকারী দর থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার চাষিদের বঞ্চিত করে চলেছে। তাই তারা দিল্লীর কৃষক আন্দোলনের দাবিগুলির সাথে একই আওয়াজ তুলে ধরেছেন, কৃষিকে কর্পোরেট-পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া, মজুতদারী কালোবাজারি মূল্যবৃদ্ধি বৈধ করা চলবে না।

ফসলের ন্যায্য দাম চাই, কম দামে সার বীজ, বিদ্যুৎ চাই। মজুরি ও খাদ্য সংকটে নগদ ভর্তুকি দাও। সব হাতে কাজ, শ্রমিকের মর্যাদা ও সামাজিক সুরক্ষা চাই। ফ্যাসিষ্ট রাজ নয়, গণতন্ত্র চাই।

ddd
নৈহাটি থেকে অশোকনগর

 

অবস্থানে বিভিন্ন বক্তা যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন তা হলো, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ রাজ্যের বুকে দলবদল আর নির্বাচনী ক্ষমতা দখলের শোরগোলের নীচে চাপা দেওয়া হচ্ছে কৃষকের চরম দূর্দশা, কাজ না পাওয়া, মজুরি কমে যাওয়া বেকারের যন্ত্রণা, শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নেওয়া সহ গরিব মানুষের জ্বলন্ত সমস্যাগুলিকে। রাজনীতিকে দুটো শিবিরে যেন ভাগ করে দেওয়ার চক্রান্ত শুরু হয়েছে – শাসক আর বিরোধী। কিন্তু এর বাইরে চলমান ব্যাপক জনগণের লড়াই,বিভিন্ন প্রতিবাদী শক্তির সংগ্রামী ঐক্য শাসকের ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। তুলে ধরছে সংগ্রামের নতুন বার্তা। দিল্লীর বুকে লক্ষ লক্ষ কৃষকের মরণপন লড়াই, বহু কৃষকের আত্মদান, জলকামান আর দমনপীড়নকে মোকাবিলা করে মোদীর ফ্যাসিষ্ট রাজত্বকে প্রবল চাপে ফেলেছে। শ্রমিকের ধর্মঘট সৃষ্টি করেছে নয়া ইতিহাস! শাহিনবাগের মতো এই সব আন্দোলনকে “আরবান নকশাল” বলে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা চলছে। কিন্তু আন্দোলনগুলি আরও তীব্র ও ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সারা দেশের কৃষকরা দীর্ঘ দিন ধরে দাবি তুলেছে, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (এমএসপি) গ্যারান্টির আইন চাই, সঠিক হিসাব করে উৎপাদন খরচের দেড়গুণ দাম চাই। সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্ষুদ্র চাষিরা চেয়েছে কৃষি উপকরণের দাম কমাও, কম সূদে কৃষি ঋণ দাও! ঋণ মুক্তি চাই! কৃষি ও গ্রামীণ মজুরদের দাবি কাজ, মজুরি ও খাদ্য সংকটে নগদ ভর্তুকি চাই!  কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করেছে। সার ডিজেল বীজ সহ কৃষি উপকরণের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফসলের ন্যায্য দাম পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়ে এখন কৃষকসন্মান প্রকল্পর নামে চাষিকে কার্যত অপমান করা হচ্ছে। ন্যূনতম সহায়ক মূল্য না পাওয়ার জন্য চাষির বিরাট লোকসান হয়ে চলেছে! কেন্দ্রীয় সরকার রেল সহ সমস্ত সরকারী ক্ষেত্রগুলিকে বিক্রি করে দিয়ে কর্মসংস্থানের জায়গাটাকে বন্ধ করে দিচ্ছে। কাজ হারানো, মজুরি কমে যাওয়া, হাজার হাজার মাইল পথ হাঁটা পরিযায়ী শ্রমিকের পাশে ওরা দাঁড়ায়নি। ১০০ দিনের প্রকল্পে বরাদ্দ ছাটাই করে সারা দেশে এই প্রকল্পকে প্রায় তুলেই দিয়েছে। লকডাউনের আর্থিক সংকট চলছে, অথচ রেশনে যেটুকু বাড়তি দেওয়া হচ্ছিলো সেটা বন্ধ করে দিয়েছে।

ss
ধর্মতলায় আইসা

 

রাজ্য সরকার ঘোষিত দামে ফসল কিনছে না, চাষিদের লোকসান করিয়ে এখন কৃষকবন্ধুর নামে দেওয়া হচ্ছে ধোঁকা। গ্রামে ক্যাম্প করে ধান সহ সমস্ত ধরনের ফসলের সরকারী দর নির্ধারণ করে কেনার ব্যবস্থা করছে না। ছিটে ফোঁটা অনুদান প্রকল্পকে অনুগ্রহ বা দয়ার দান হিসাবে দেখিয়ে ভোটের বাক্সে ফয়দা তুলতে চাইছে। অথচ রাজ্যের কয়েক কোটি শ্রমজীবী মেহনতিরা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছে! তৃণমূল সরকার মুখে কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরোধীতা করলেও তাকে ঠেকাতে এ রাজ্যে পৃথক আইন প্রণয়ন করছে না। ১০০ দিনের কাজে চলছে সীমাহীন দুর্নীতি।

অবস্থান মঞ্চে ধারাবাহিকভাবে অংশ নিয়েছেন এআইকেএসসিসি রাজ্য সচিব ও এআইকেএম নেতা কার্তিক পাল, এআইকেএসসিসির নেতা অভীক সাহা, সুশান্ত ঝা, সমীর পুতুতুন্ডু, প্রদীপ সিং ঠাকুর, শংকর দাস প্রমূখ। এছাড়াও ছিলেন এআইকেএম-এর কৃষ্ণ প্রামানিক, জয়তু দেশমুখ, তপন বটব্যাল, সুবিমল সেনগুপ্ত, সলিল দত্ত, আয়ারলার আনসারুল আমান মন্ডল, সজল অধিকারী, সজল পাল, এআইসিসিটিইউ-র বাসুদেব বসু, দেবব্রত ভক্ত, জীবন কবিরাজ প্রমূখ। আইসা ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের ছাত্রছাত্রীদের উজ্জ্বল উপস্থিতি, উত্তাল স্লোগান, বর্ণময় পোস্টার প্ল্যাকার্ড লিখন অবস্থানকে প্রাণবন্ত করে তোলে। গণ সংস্কৃতি পরিষদের নীতীশ রায়, বাবুনি মজুমদার সহ বিভিন্ন দলের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, অসীম গিরির গান সংগ্রামী মেজাজ তৈরি করে। বেশ কয়েকটি পথ নাটিকা প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়াও অবস্থানে বক্তব্য রাখেন বামপন্থী বিধায়ক ও এআইকেএস নেতা মহঃ সেলিম, অগ্রগামী কিষণ সভার হাফিজ আলম সাইরানি, সংযুক্ত কিষাণ সভার সুভাষ নস্কর, বিকেএমইউ-র তপন গাঙ্গুলী, এআইকেকেএসইউ নেতা পঞ্চানন মন্ডল প্রমূখ বামপন্থী কৃষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অবস্থানকে লাগাতার চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এআইকেএসসিসি নেতৃবৃন্দ।

আগামী কর্মসূচী –
(ক) ১৮ জানুয়ারী মহিলা কিষাণ দিবস হিসাবে মহিলাদের প্রতিবাদী কর্মসূচী পালিত হবে।
(খ) ২০-২১-২২ জানুয়ারী বৃহত্তর কৃষক জমায়েত করে ধর্মতলায় অবস্থান করা হবে।
(গ) ২৬ জানুয়ারী দেশব্যাপী ও রাজ্যে রাজ্যে ট্রাক্টর মিছিল বের হবে।

eddede

বিজেপি এবার পরিকল্পিত অভিযান শুরু করতে চলেছে — গ্রামে গ্রামে ঢোকার। সঙ্গে আরএসএস। ২০১৬-র বিধানসভা ও ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে গ্রামবাংলায় গেরুয়া দলের অনুপ্রবেশ ঘটেছে ব্যাপক। তার ঘনীভূত প্রমাণ মেলে উত্তরবঙ্গের জেলায় জেলায় এবং দক্ষিণবঙ্গের জঙ্গলমহল ও রাঢ় এলাকায়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ-সীমান্ত গ্রামাঞ্চলে তার বিস্তার যথেষ্ট চিন্তার কারণ। বিজেপি এবার কেবল ভালো ফল করার বিগত লক্ষ্যে ক্ষান্ত থাকতে চাইছে না, বাংলা দখলের জিগির তুলে ঝাঁপাচ্ছে। তার জন্য নজর ব্যাপক গ্রামভিত্তিক বিধানসভা কেন্দ্রগুলোর ওপর।

পরিস্থিতি তাই দাবি করছে এর পাল্টা তীব্র ও ব্যাপক উদ্যোগ-সক্রিয়তা শুরু করে দেওয়া দরকার। দিল্লীর দীর্ঘস্থায়ী কৃষকের প্রতিরোধ আন্দোলন গ্রাম ভারতের কৃষকের ভাবমানসে এক নতুন আবহ এনে দিয়েছে। বাংলার গ্রামে গ্রামেও তার উত্তাপ কোনো-না-কোনো মাত্রায় পৌঁছাচ্ছে। তার সাথে তুলতে হবে এরাজ্যের কৃষি ও কৃষক জীবনের দূর্দশার মূল মূল কারণগুলোর প্রতিকারের আওয়াজ। গ্রামে কৃষক জনতা ছাড়াও অন্যান্য পরিচিতির নিম্ন-মাঝারি বিত্তের ও নিম্নবর্ণের মানুষজন বাস করেন, তারাও নানা দিক থেকে ভুক্তভোগী। যথার্থ অভিযোগ ও দাবিগুলো তুলে ধরে সচেতন-সংগঠিত হতে হবে সমস্ত অংশের জনগণকে, পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে মোদীরাজ-বিজেপি-আরএসএস-কে প্রত্যাখ্যান করার।

বিজেপি বলছে, বাংলায় চল্লিশ হাজার গ্রামসভা করবে। লক্ষ্যমাত্রাটা অতিরঞ্জিত ধরে নিলেও হাল্কা করে দেখার নয়। আরএসএস বলছে, জনসংযোগ করবে তেত্রিশ হাজার গ্রামে। দুটো সংগঠনের টার্গেট মোটামুটি একই রকম এবং সংখ্যায় বেশ বিশাল। বিজেপির অতিরিক্ত সুবিধা হল, আরএসএস-এর নেটওয়ার্ক পাবে, যার বহুবিচিত্র শাখা আছে। জন সংযোগে প্রচারের প্রধান প্রধান বিষয় করবে শাসক তৃণমূলের দুর্নীতি-দলতন্ত্র সহ কেন্দ্রের ‘কৃষক সম্মাননা’র প্রকল্প কত ‘কৃষি ও কৃষক দরদী’ তাতে মোহিত করা। বিজেপি কর্মসূচী নিয়েছে ঘর ঘর থেকে এক মুঠো চাল চেয়ে গ্রামেই বসে ভোজনপর্ব সারার। এভাবে দেখাবে যেমন ‘জনগণের কাছ থেকে নেওয়ার’ এক চমক প্রদর্শন, তেমনি কসরত দেখাবে জনতাকে মন ভুলানো ‘সান্ত্বনা’ দেওয়ার। ব্যবহার করবে ‘অনুপ্রবেশকারী’ ও ‘নতুন করে নাগরিকত্ব প্রদানের’ নামে পাকিয়ে তোলা ইস্যু- দুটিকে। রয়েছে মাদ্রাসাকে সন্ত্রাসবাদ ছেয়ে গেছে দাবি করা প্রচার। তারপরে টিএমসি দলত্যাগীকে রাজ্যে জেসিআই-এর চেয়ারম্যান করল, তাতেও ছক রয়েছে, লাভজনক দামে পাট বিক্রির আশায় রেখে পাট চাষিদের প্রভাবিত করতে চাইবে, পাট চাষিদের এক উল্লেখযোগ্য অংশ মুসলিম সম্প্রদায়ের। পাশাপাশি, আরএসএস নামছে জাত-ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণী-সম্প্রদায় ভিত্তিক গ্রাম সমাজের কাঠামো মাথায় রেখে। তবে শ্রেণীভাগ নিয়ে তার তত মাথাব্যথা নেই। মুসলিম বাদে যে অংশে যা প্রচার করলে জাত-বর্ণ নির্বিশেষে সব অংশকেই বৃহত্তর হিন্দু পরিবারের অঙ্গাঙ্গী করে ফেলা যায়, সঙ্ঘ প্রচারকরা সেটাই করবে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগণের প্রতি প্রয়োগ করবে খতরনাক দ্বৈত পলিসি। একদিকে হিন্দু সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষে ভয়াতঙ্ক ছড়ানো, যাতে সবদিক থেকে নিরাপত্তাহীনতায় অবসাদগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে যত পারা যায় অসংহত করে দেওয়া।

তবে বিজেপি-আরএসএস-কে পাল্টা উন্মোচিত করারও যথেষ্ট রসদ রয়েছে। ‘কৃষক সম্মাননা’ প্রকল্প সাময়িক একটা খয়রাতি প্রকল্প মাত্র। রাজ্যের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পও তাই। মোদী সরকার বলেছিল, ২০২২-এর মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করবে। আর ২০২১-এ নিয়ে এল কৃষি ও কৃষক বিরোধী এবং কর্পোরেট স্বার্থসর্বস্ব তিনটি আইন। দেশ প্রত্যক্ষ করছে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কৃষক জনতার এককাট্টা নাছোড় প্রতিরোধ। কালা তিনটি আইন প্রত্যাহার করতেই হবে। এ লড়াই ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীর রাজপথ থেকে রাজ্যে রাজ্যে, বার্তা যাচ্ছে গ্রাম-গ্রামান্তরে। হরিয়ানায় বিজেপি সরকারের ‘মোদীর কৃষি আইনে’র সপক্ষে তৈরি তথাকথিত মহাপঞ্চায়েতের মঞ্চ কৃষক জনতা লন্ডভন্ড করে দিয়েছেন, সুপ্রীম কোর্টের ‘মধ্যস্থতা’র নামে মোদীর গোমস্তাগিরি কৃষক জনতা মেনে নেননি, পশ্চিমবঙ্গেও জ্বলতে শুরু করেছে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মশাল। নেতৃত্ব দিচ্ছে বামপন্থীরা। বামেদের চাপে মমতা সরকার বাধ্য হয়েছে জানুয়ারীর শেষে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে, মোদী সরকারের তিন কালা কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব গ্রহণ করবে। বিজেপির দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার স্বরূপ উন্মোচনের আরও অনেক ভিত্তি আছে। ‘পি এম কেয়ারস্’ তহবিলকে ক্ষমতার জোরে হিসাব পরীক্ষার বাইরে রাখার পিছনে রয়েছে অশুভ স্বার্থ। ‘পিএম কিষাণ’ প্রকল্পেও ধরা পড়ছে অসাধু পক্ষপাতিত্ব পৌঁছাচ্ছে কোন পর্যায়ে! অনুদান পাওয়ার কথা নয় অথচ এমন ২০.৪৮ লক্ষ ‘চাষি’র কাছে চলে গেছে ১৩৬৪ কোটি টাকা! প্রকল্প শুরু হতেই এই কান্ড! সুবিধাভোগীদের ৫৫.৫৮ শতাংশ আয়কর দেন! এ চোরাতথ্য সরকার নিজের গরজে প্রকাশ করেনি, পর্দা ফাঁস হয়েছে আরটিআই করতে। এসব তো বিজেপির বিরুদ্ধে মোক্ষম ইস্যু হতেই পারে।

তাছাড়া রয়েছে রাজ্যের কৃষি-কৃষক ও অন্যান্য প্রকল্পের অশেষ দুর্গতির প্রশ্ন, যার পেছনে প্রচন্ড দায়ী মোদীর গ্রাম-ঘাতক নীতি। ঋণ মুক্তি ও ফসলের দেড়গুণ দাম, কৃষি উপকরণের স্বল্প মূল্যে সুলভ সরবরাহ, পর্যাপ্ত ভূপৃষ্ঠ ভিত্তিক সেচ ব্যবস্থা, সরকারী বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারী-বেসরকারী পুরানো ঋণ মকুব ও সহজ শর্তে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ যোগান, অরণ্য সম্পদের উপর আদিবাসীদের চিরাচরিত অধিকার, একশ দিনের কাজের সম্প্রসারণ ও মজুরি বৃদ্ধি, সমকাজে নারী-পুরুষের সমমজুরি, আমফান ত্রাণবরাদ্দের প্রশ্নে কেন্দ্রের নিদারুণ বঞ্চনা, পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি প্রতারণা, সমান নাগরিকত্বের অধিকারের মর্যাদা, ঘাতক সিএএ-এনআরসি-এনপিআর পলিসি প্রত্যাহার – এইসমস্ত জ্বলন্ত দাবিতে বিজেপি-আরএসএস-কে দূর দূর করে তাড়াতে হবে। ওদের রাম মন্দিরের নামে তহবিল তোলার অভিযান রাজনীতির স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করা ও সাম্প্রদায়িকীকরণেরই বিষয়। এটা বুঝতে হবে, বুঝিয়েও দিতে হবে। গ্রামবাংলা থেকে উঠুক নতুন রণধ্বনি — বিজেপি-আরএসএস হটাও, বাংলা বাঁচাও!!

aareefffr

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলার প্রয়াস আমেরিকার জনগণ যখন চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন গোটা দুনিয়ার কাছে এক জোরালো সতর্ক বার্তাও ধ্বনিত হচ্ছে। কেননা, বিশ্ব পুঁজিবাদের যে সংকট বেড়ে চলেছে, বিশেষত অতিমারী একনাগাড়ে দু-বছর নাছোড়বান্দার মতো পৃথিবীতে চলতে থাকায় যা আরও তীব্র হচ্ছে, তারই অনিবার্য সঙ্গী হচ্ছে সংসদীয় গণতন্ত্রের বিপন্নতা।

ভোট গণনা শুরু হওয়ার সময় থেকেই ট্রাম্প নির্বাচনকে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ এনে ওই গণনাকে থামানোর চেষ্টা চালিয় যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট রূপে জো বাইডেনকে দেখতে আমেরিকা এখন প্রস্তুত। নির্বাচনের বৈধতায় স্বীকৃতি দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া মার্কিন সংসদ যখন চালাচ্ছিল, ট্রাম্প তখন সংসদ ভবনে আক্রমণ চালানোর জন্য তাঁর সমর্থকদের উস্কিয়ে তুললেন। প্রেসিডেন্ট হিসাবে চার বছরের স্বৈরশাসনে ট্রাম্প সাহেব কখন কি করবেন তা অনুমান করা কারও পক্ষেই সম্ভব ছিল না, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হোক বা বাকি দুনিয়া, কেউই কল্পনা করতে পারেনি যে উনি একেবারে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করে বসবেন।

ব্যর্থ অভ্যুত্থানের খুঁটিনাটি যা প্রকাশ্যে আসছে সেগুলো আমরা যখন বুঝে ওঠার চেষ্টা করছি, তখন এটা ক্রমেই আরও বেশি করে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, আক্রমণ কখনই অতর্কিতে বা স্বতঃস্ফূর্তভাবে চালানো হয়নি, তা ছিল সুপরিকল্পিত এবং উদ্যোগটা প্রশাসনের ভেতর থেকেই চালানো হয়েছিল। দশকের পর দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের নানা দেশেই সরকারের পতন ঘটিয়েছে, সামরিক অভ্যুত্থান এবং গণহত্যার সংঘটনে ইন্ধন যুগিয়েছে, যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, গৃহযুদ্ধ উস্কিয়ে তুলেছে, এবং সম্ভাব্য সমস্ত উপায়েই জমানা পরিবর্তন সংঘটিত করেছে। আর, এ সবই করেছে স্বৈরাচারী শাসকদের ক্ষমতায় বসিয়ে তাকে গণতন্ত্র বলে চালানোর লক্ষ্যে। যে অভ্যুত্থান ৬ জানুয়ারী ঘটল তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, ‘গণতন্ত্র রপ্তানির’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত উদ্যোগ আজ আত্মঘাতী হয়ে দেখা দিতে শুরু করেছে।

প্রেসিডেন্ট রূপে ট্রাম্প যে ক্ষমতায় আসতে পারলেন এবং তারপর ইসলামোফোবিয়া ও অভিবাসী আতঙ্কের আগুন উস্কিয়ে তুলে আমেরিকার অভ্যন্তরে এক শক্তিশালী বর্ণবাদী উন্মাদনার জন্ম দিলেন; এরপর কোভিড-১৯ অতিমারীতে ব্যাপক সংখ্যক নাগরিকের মৃত্যু এবং প্রশাসনের তীব্র সংকটের মুখে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও ট্রাম্প প্রায় অর্ধেক আমেরিকার সমর্থন পেলেন; এই ঘটনাটাই দেখিয়ে দেয় যে, ব্যর্থ হয়ে যাওয়া ৬ জানুয়ারীর অভ্যুত্থানকে আমেরিকা এক দুঃস্বপ্ন বলে উড়িয়ে দিতে পারে না। পচন অত্যন্ত গভীরে ছড়িয়েছে এবং ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট জমানা যে উত্তরাধিকার রেখে গেল তার থেকে দ্রুত ও সহজে উদ্ধার পাওয়া যাবে না।

প্রেসিডেন্ট রূপে ট্রাম্প জমানার উত্থান আমেরিকার সামাজিক কাঠামোর গভীরে প্রোথিত বর্ণবাদ এবং শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদকে হাট করে খুলে দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান কর্পোরেট আগ্ৰাসন এবং গণতন্ত্র, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও আইনের শাসনের বুনিয়াদী নীতির মধ্যে স্বার্থের তীব্র দ্বন্দ্বকেও তা সামনে এনেছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে লাগামহীন বেসরকারীকরণ আমাদের নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও প্রশাসনের বেসরকারীকরণের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এবং এই পথে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং পদ্ধতিগুলোকে ফোঁপরা করে তুলছে। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট জমানা শুধু হিটলারের নয়া অবতারের করাল ছায়াকেই মূর্ত করেনি, নিরঙ্কুশ কর্পোরেট শাসনের রূপ কি হতে পারে তার আভাসও দিয়েছে। ব্যর্থ হয়ে যাওয়া ট্রাম্প অভ্যুত্থান সারা বিশ্বেরই ক্রোধ ও ধিক্কার আকর্ষণ করেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশের সরকার নির্বাচনী ফলাফল মেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন। যে নরেন্দ্র মোদী ট্রাম্পের প্রবল সমর্থক রূপে নিজেকে জাহির করেছিলেন ‘হাউডি মোদী’ ও ‘নমস্তে ট্রাম্প’ কর্মসূচীতে ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে, দ্বিতীয়বারের জন্য শাসন ক্ষমতায় ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের জন্য জনসভায় প্রচার চালিয়েছিলেন, সেই নরেন্দ্র মোদীও টুইট করে তাঁর ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন। তবে মোদী ভক্ত এবং কট্টর ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে যে প্রবল একাত্মতা রয়েছে, ব্যর্থ হয়ে যাওয়া অভ্যুত্থানের সময় তা আবারও দেখা গেল, ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন মোদী সমর্থক বলে চিহ্নিত হয়ে পড়েছিলেন।

ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে আমরা এমন সমস্ত ঘটনা দেখতে পাই যেগুলোর সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২০২১-এর ৬ জানুয়ারীর ক্যাপিটল হানাদারির পুরোদস্তুর মিল রয়েছে। বিজেপির পূর্বসূরী ভারতীয় জনসংঘের হাজার-হাজার সমর্থক ১৯৬৬ সালের ৭ নভেম্বর গরু জবাইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির দাবিতে ভারতের সংসদে হামলা চালিয়েছিল। এর ছাব্বিশ বছর পর বিজেপি সমর্থকরা সুপ্রিম কোর্টকে সরাসরি অবজ্ঞা করে প্রকাশ্য দিবালোকে বাবরি মসজিদ গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। পুলিশ ১৯৬৬র হামলাকে দমন করলেও ১৯৯২ সালে তারা নীরব দর্শক হয়েই থাকে। বিজেপি এখন প্রধান রাজনৈতিক শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করায় মসজিদ ভাঙ্গায় যুক্ত সবাই খালাস পেয়ে গেছে এবং গুঁড়িয়ে যাওয়া মসজিদের স্থানে মন্দির নির্মাণের রায়ের মধ্যে দিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তারা পুরস্কৃতও হয়েছে। সংঘ বাহিনী এখন যে কায়দাটাকে নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করেছে তা হল গণ প্রহারের কৌশল যার মাধ্যমে জনগণকে চুপ করিয়ে দেওয়া ও তাদের হত্যা করা যায়, আর বিজেপি যে শিল্পটাকে নিপুণ করে তুলেছে তা হল বিরোধী পক্ষের বিধায়ক ও সাংসদদের কিনে নেওয়া এবং অধ্যাদেশ জারি করে ও প্রতারণামূলকভাবে আইন পাশ করিয়ে আইনসভাগুলোকে এড়িয়ে যাওয়া ও সেগুলোর ওপর জোরজবরদস্তি চালানো।

আমরা ভারতবাসীরা কেবল বিপন্নতার ঝুঁকির বিনিময়েই আমেরিকায় চালানো অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার শিক্ষাকে অবজ্ঞা করতে পারি। কোনো ভোটাভুটি ছাড়াই ভারতীয় সংসদে যখন আইন পাশ করানো হয়, কৃষকরা এই দানবীয় ও বিপর্যয়কর আইনগুলোর বাতিলের দাবি তুললে সরকারের নীতি রচনাকারী শাখা যখন কৃষকদের “বড্ড বেশি গণতন্ত্র দেওয়া হচ্ছে” বলে অভিযোগ জানায়, সরকারের বিরোধিতা করার জন্য ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রাধান্যকারী অংশ যখন কৃষকদের দেশদ্রোহী আখ্যা দেয়, তখন আমাদের বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, আমরা এখনও এক গুরুতর সময়েরই মোকাবিলা করছি। মার্কিন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গণতন্ত্রপন্থী যে সমস্ত শক্তি ট্রাম্পের রেখে যাওয়া বিপর্যয়কর উত্তরাধিকারের অবসান ঘটানো ও তাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য লড়াই করছেন তাদের পাশে দাঁড়ানোর সাথে-সাথে ভারতেও আমাদের ফ্যাসিবাদী-কর্পোরেটদের হাতে ভারতীয় গণতন্ত্রের কব্জা হয়ে যাওয়াকে প্রতিহত করতে কঠোর লড়াই চালাতে হবে।

(এম-এল আপডেট সম্পাদকীয়, ১২ জানুয়ারী ২০২১)  

aaaraz

আজাদী। মূল পারসিয়ান বা ফারসি ভাষা থেকে উৎসারিত এই শব্দটি আজ ভারতের অধিকাংশ ভাষাতেই যথেষ্ট পরিচিত ও ব্যবহৃত। অনেকটা ইনকিলাব জিন্দাবাদ স্লোগানের মতো। আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগতির সাক্ষ্য হিসেবে বিগত একশ বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় ছড়িয়ে গিয়েছে এই ধ্বনি। প্রতিবাদের ভাষা, প্রত্যয়ের ছন্দ।

এখানে যে আজাদী নিয়ে আমরা আলোচনা করব তা কিন্তু একটি ইংরেজী বইয়ের শিরোনাম। অরুন্ধতী রায়ের সাম্প্রতিকতম রচনা সংকলন ‘AZADI’। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি থেকে কোভিড-কবলিত ২০২০ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে ন’টি ভাষণ, বিবৃতি বা রচনার সংকলন হিসেবে এই ভাষ্য আমরা হাতে পেয়েছি। ‘আজাদী’ শিরোনামের নীচে রয়েছে তিনটি উপশিরোনাম – ফ্রীডম, ফ্যাসিজম, ফিকশন। এই তিনটি শব্দ একটি বাক্যে সম্মিলিত করে বলা যায় – ফিকশন দ্যাট গ্রোজ ফ্রম দ্য ফাইট ফর ফ্রীডম ফ্রম ফ্যাসিজম। ফ্যাসিবাদ থেকে আজাদী বা স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম থেকে উঠে আসা রচনা।

অরুন্ধতীর সঙ্গে অধিকাংশ পাঠকেরই প্রথম পরিচয় বিগত শতাব্দীর শেষ প্রান্তে তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপন্যাস ‘দ্য গড অফ স্মল থিংগস’-এর মাধ্যমে। পরবর্তী উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অফ আটমোস্ট হ্যাপিনেস’-এর জন্ম ঠিক দু-দশক পরে ২০১৭ সালে। এই দীর্ঘ অন্তরাল পর্বে আমরা পেয়েছি প্রাবন্ধিক অরুন্ধতী রায়কে। ক্ষুরধার বিশ্লেষণ ও সুগভীর অন্তর্দৃষ্টিতে সমৃদ্ধ এই রচনাসম্ভারও সম্প্রতি আর একটি সংকলন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে ‘মাই সিডিশাস হার্ট’। ‘আমার বিদ্রোহী হৃদয়’।

আজাদী সংকলনটি একই সাথে ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক অরুন্ধতী রায়ের রচনাযাত্রার এক আত্মজৈবনিক ধারাভাষ্য। উপন্যাস ও প্রবন্ধসাহিত্য – ইংরেজীতে ফিকশন ও নন-ফিকশন – এই দুই পায়েই অরুন্ধতী হেঁটে যেতে চান, দুয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠেছে তাঁর রচনার ভাষা ও ছন্দ। তিনি এই সমন্বয়ে সিদ্ধহস্ত হলেও তাঁর পাঠকবর্গের একাংশের কাছে এ এক সংঘাত। হায়দ্রাবাদের এক আলোচনাসভার কথা উল্লেখ করে অরুন্ধতী আমাদের জানিয়েছেন সেই অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা যখন তাঁর দুপাশে উপবিষ্ট দুই বিদগ্ধ বিশ্লেষক একই সময়ে তাঁকে দু’রকম পরামর্শ দিচ্ছিলেন। একজন বলছিলেন উপন্যাস ছেড়ে প্রবন্ধসাহিত্যে আরও মনোযোগ দিতে, অন্য জনের কাছে ছিল প্রবন্ধ রচনায় সময় অপব্যয় না করে প্রকৃত সাহিত্যে মনোনিবেশ করার উপদেশ। অরুন্ধতীর কাছে উপন্যাস ও প্রবন্ধসাহিত্যের এই সমন্বয়ের মূলে রয়েছে তাঁর মুক্তিকামী চেতনা, প্রতিবাদী সত্তা যার মূল কথা বর্তমান পর্যায়ে ফাসিবাদ থেকে স্বাধীনতা। আজাদী।

অরুন্ধতী এই আজাদী শব্দকে মূলত কাশ্মীরী জনগণের মনের কথা হিসেবেই তুলে ধরেছেন। ব্রিটিশ শাসন থেকে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করা একটি দেশ কীভাবে কাশ্মীরী জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্খার প্রতি এত উদাসীন হতে পারে বা এমন নিষ্ঠুর দমনের পক্ষে দাঁড়িয়ে যেতে পারে এই ধাঁধা তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেন অসমাপ্ত দেশভাগের অ্যাজেণ্ডাকে সমাপ্ত করার সঙ্গে কাশ্মীরের কোনো ঐতিহাসিক যোগাযোগ নেই। কাশ্মীর ব্রিটিশ ভারতের অঙ্গ ছিল না, পরবর্তী পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে একীকরণের প্রশ্নে উদ্ভুত সমস্যাই ঐতিহাসিকভাবে কাশ্মীর প্রশ্ন। সমস্যাটা বিভাজনকে ঘিরে নয়, জোর করে একীকরণ করার ক্রমবর্ধমান সামরিক প্রক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই আজ কাশ্মীর পরিস্থিতি এত জটিল ও সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এই সমস্যার মানবিক ও গণতান্ত্রিক সমাধান না হলে তা গোটা ভারতবর্ষকে এক বৃহত্তর কাশ্মীরে পরিণত করবে। কোভিড পরবর্তী নিষ্ঠুর লকডাউন ও উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে ও দিল্লী রাজধানীর বুকে পুলিশী তাণ্ডবের ক্রমবর্ধমান ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ দ্রুত ভারতীয় গণতন্ত্রকে এই বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

কাশ্মীরের লক্ষ লক্ষ মানুষকে আইনী প্রতারণা ও সামরিক পরিবেষ্টনের বেড়াজালে আটকে রাখা আর অসমের মতো রাজ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করে নিজের দেশে পরবাসী করে ফেলা, একই রাষ্ট্রের দুই নির্মম আগ্রাসী অভিযান। বর্তমান সংকলনে অরুন্ধতীর বিভিন্ন রচনায়, বিশেষ করে ১৯ নভেম্বর ২০১৯ নিউইয়র্কের ক্যুপার ইউনিয়ন গ্রেট হলে প্রদত্ত ভাষণে (ইনটিমেশনস অফ অ্যান এণ্ডিং: দ্য রাইজ অ্যাণ্ড রাইজ অফ দ্য হিন্দু নেশন) কাশ্মীর ও অসম প্রসঙ্গ খুবই তথ্যনিষ্ঠভাবে আলোচিত হয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদকে অকেজো করে দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের যাবতীয় সংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং বাংলাদেশী অনুপ্রবেশের আতঙ্ক ও প্রতিবেশী দেশে হিন্দু নির্যাতনের প্রশ্নকে সামনে রেখে এনআরসি-এনপিআর ও নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের পরিভাষাকে বদলে দেওয়া – এ’দুটি পদক্ষেপই হিন্দুরাষ্ট্রের লক্ষ্যের অভিমুখে আরএসএস-এর ঐতিহাসিক অভিযানের দুই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। রাষ্ট্রের চরিত্র বদলে দাও, জাতি বা নেশনের সংজ্ঞা বদলে দাও, নাগরিকত্বের পরিভাষা বদলে দাও – এটাই তো আরএসএস ও সংঘ পরিবারের রণনৈতিক লক্ষ্য। আর আজ ক্ষমতার ভারসাম্যকে নিজের পক্ষে ঝুঁকিয়ে নিয়ে এক এক করে এই অভীষ্ট সিদ্ধ করার পথে পা বাড়িয়েছে মোদী-শাহ-যোগীর বিজেপি জমানা।

ভারতের বর্তমান এই রাজনৈতিক পর্যায়কে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় ফ্যাসিবাদের উত্থান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অরুন্ধতী রায়। রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে গণতন্ত্র ও মানবতার নিধন যজ্ঞে মেতে ওঠাটাই ফ্যাসিবাদের নীল নকশা। কিন্তু শুধুমাত্র এই ধ্বংসের তাণ্ডবলীলার তীব্রতা দিয়ে ফ্যাসিবাদকে চিনতে গেলে অনেক দেরী হয়ে যাবে। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদের অভিজ্ঞতালব্ধ ইতিহাস চেতনা যদি আমাদের থাকে তাহলে আজকের মোদী-শাহ-যোগী জমানার অ্যাজেণ্ডা ও রাজনৈতিক চরিত্র সম্পর্কে বিতর্কের কোনোই অবকাশ থাকতে পারে না। মোদী সরকারের বিভিন্ন নীতি ও পদক্ষেপ থেকে যেমন এই ফ্যাসিবাদকে চেনা যায় ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হল আরএসএস-কে চেনা ও বোঝা।

মনে রাখা দরকার ইউরোপে ফ্যাসিবাদের জন্মলগ্নেই ভারতে আরএসএস-এর জন্ম এবং এটা ইতিহাসের কোনো কাকতালীয় সমাপতন নয়। অনেক দিক থেকেই ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদের (ইটালিতে মুসোলিনী ও জার্মানীতে হিটলার) অনুপ্রেরণায় ও আদলে ভারতে আরএসএস-এর যাত্রা শুরু হয়। ইউরোপে সেই ফ্যাসিবাদ দ্রুত রাষ্ট্রক্ষমতায় চলে আসে, তার বিধ্বংসী তাণ্ডবের কথা স্মরণ করে আজও পৃথিবী শিউরে ওঠে। ভারতে আরএসএস-কে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের পর্যায়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ও দেশভাগের দুঃস্বপ্নের মাঝেও আরএসএস-কে দেশের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন এক প্রান্তিক শক্তি হিসেবেই থাকতে হয়েছে। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই গান্ধীহত্যার কলঙ্ক নিয়ে নিষিদ্ধ অবস্থায় কোণঠাসা হতে হয়েছে। কিন্তু আরএসএস-এর ধারাবাহিকতায় কখনও কোনো ছেদ পড়েনি।

স্বাধীনতা পর্যায়ের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে আসএসএস ধীরে ধীরে শুধু তৃণমূল স্তরে সংগঠন বিস্তার করেনি, রাষ্ট্রক্ষমতায়, নিভিন্ন নীতিনির্ধারক সংস্থায় এবং জনমত সংগঠিত ও প্রভাবিত করার বিভিন্ন মাধ্যমে ধীরে ধীরে তার অনুপ্রবেশ বাড়িয়েছে। ভারত-চীন যুদ্ধের অব্যবহিত পরে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে আরএসএস-এর অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেহেরু আমলের শেষপর্যায়েই দেশের তথাকথিত মূল স্রোতে সংঘ পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। সাতাত্তরে জনতা পার্টিতে জনসংঘের বিলয়ের মাধ্যমে কেন্দ্র সরকারে সরাসরি অংশগ্রণের সুযোগ পেয়ে যায় আরএসএস। পরবর্তীতে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে ও নব্বইয়ের দশকের শেষ পর্যায়ে রামমন্দির, ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বা ইউনিফর্ম সিভিল কোডের মতো ইতিমধ্যেই চিহ্নিত বিতর্কিত প্রশ্নগুলিকে স্থগিত রেখে মোর্চা গঠনের মাধ্যমে বাজপেয়ী জমানার সূত্রপাত – এভাবে আরএসএস ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় ও প্রভাব বিস্তার করে গেছে।

২০১৪ সালে তারা পেয়ে যায় সুবর্ণ সুযোগ। দশ বছরের ইউপিএ শাসনের পর ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, দুর্বল প্রধানমন্ত্রী ও দুর্বল সরকারের অভিযোগতুলে শক্তিশালী নেতা, শক্তিশালী সরকারের ধ্বজা উঁচিয়ে নরেন্দ্র মোদী ও তথাকথিত গুজরাট মডেলকে সামনে রেখে বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় চলে আসে আরএসএস। ক্ষমতায় এসে কিছুদিন আচ্ছে দিন, স্বচ্ছ অর্থনীতি, স্বচ্ছ ভারতের কথা বলে কেন্দ্রে ও বেশ কয়েকটি রাজ্যে শক্তি সংহত করে নিয়ে আরএসএস তার সমগ্র অ্যাজেণ্ডাকে দ্রুত প্রকাশ্যে আনতে ও চাপিয়ে দিতে শুরু করে। একদিকে ভীড় হিংসার মাধ্যমে গোটা দেশ জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা, অন্যদিকে রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রশাসনের উত্তরোত্তর কেন্দ্রীকরণের মধ্য দিয়ে আইন কানুন, অর্থব্যবস্থা ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশ সবকিছু ওলট পালট করে ফেলা – মোদী রাজত্বে আজ এমনই এক দক্ষযজ্ঞের মধ্যে আমরা রয়েছি। সংবিধানসম্মত আইনের শাসনের বদলে শিবঠাকুরের আপন দেশের সর্বনেশে আইন-কানুন আমাদের ঘিরে ফেলেছে। অরুন্ধতীর ভাষায় আরএসএস-ই হয়ে উঠেছে আজ রাষ্ট্র। নিছক অনুপ্রবেশ নয়, সমান্তরাল ব্যবস্থা নয়, আরএসএস নির্দেশিত রাষ্ট্রব্যবস্থা। হিটলারী জমানার গ্যাসচেম্বার ও বিশ্বযুদ্ধ বাদ দিলে ভারতীয় ফ্যাসিবাদের মোদী মডেল বা আরএসএস ঘরানায় অন্য কোনো উপাদানেরই ঘাটতি নেই।

ভারতীয় ফ্যাসিবাদ ও ইটালি বা জার্মানীর ইউরোপীয় ফ্যাসিবাদের তুলনামূলক অধ্যয়নে সাদৃশ্যের পাশাপাশি বহু বৈসাদৃশ্য স্বাভাবিকভাবেই চোখে পড়বে। মুসোলিনী ও হিটলার জমানা থেকে মোদী আর ট্রাম্পের জমানা প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ অন্য স্তরে পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির যুগান্তকারী পরিবর্তন রাষ্ট্রকে সাধারণভাবেই এক দৈত্যকায় পাহারাদারে পরিণত করেছে। নাগরিক জীবনে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে, বিপরীতে রাষ্ট্রের উপর নাগরিক সমাজ বা নির্বাচকমণ্ডলীর গণতান্ত্রিক নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ ছেঁড়া কাগজে পরিণত হচ্ছে। আমেরিকায় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর ট্রাম্পবাহিনী যেভাবে নির্বাচনী ফলাফলকে মানতে ও ক্ষমতা হস্তান্তর করতে অস্বীকার করছে বা ভারতে বিজেপি যেভাবে একের পর এক রাজ্যে বিধায়কদের কিনে নিয়ে বিরোধী দল শাসিত সরকারকে ভেঙে দিচ্ছে বা সংসদে বিনা ভোটেই জোর করে আইন পাশ করিয়ে নিচ্ছে তাতে সংসদীয় গণতান্ত্রিক প্রণালী সাধারণভাবেই এক গভীর সংকটের মুখে।

অর্থনীতির চূড়ান্ত বেসরকারীকরণের সাথে সাথে রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থারও বেসরকারীকরণের বিরাট চাপের মুখে পুঁজিবাদী গণতন্ত্রের গোটা কাঠামো আজ টলায়মান। কোভিড অতিমারী এবং বর্ণবিদ্বেষী স্বৈরতান্ত্রিক ট্রাম্প শাসনে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এবং তথাকথিত প্রাচীনতম গণতন্ত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আজ গভীর সংকটে। গণতন্ত্র রপ্তানির নামে যে দেশ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধ, সামরিক অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রপ্তানি করে এসেছে আজ সেদেশ নিজেই এক তীব্র দক্ষিণপন্থী অভ্যুত্থানের মুখে।

ভারতে ফ্যাসিবাদের উত্থানের বর্তমান পর্যায়ে আজকের এই আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের অবশ্যই সুস্পষ্ট ছাপ রয়েছে। কিন্তু আরএসএস-এর প্রায় এক শতাব্দী দীর্ঘ ইতিহাসকে বাদ দিয়ে যেমন আজকের এই সময়কে ভারতের নির্দিষ্ট পরিপ্রেক্ষিতে মোটেই চেনা যাবে না, তেমনি ভারতের সামাজিক ইতিহাস ও সমাজব্যবস্থার নির্দিষ্ট প্রসঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্নভাবেও ভারতীয় গণতন্ত্রের আজকের এই গভীর অসুখকে বোঝা যাবে না। অরুন্ধতী তাঁর রচনায় বারবার আমাদের সেই অসুখের উৎসে নিয়ে যান। এই রোগের নাম কাস্ট। হিন্দীতে জাতি, আর বাংলায় এই রোগের কথা সেভাবে গুরুত্ব পায়নি বলেই বোধকরি বাংলায় এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো শব্দই নেই। বাংলায় জাতি বলতে আমরা বুঝি নেশন আর কাস্টের সমার্থক হিসেবে আমরা যথেষ্ট উন্নাসিকতা ও উপেক্ষার সঙ্গে বলে থাকি ‘জাতপাত’। কিন্তু জাতি বা কাস্ট সম্পর্কে এই নীরবতা শুধু বাংলা ভাষার ব্যাপার নয়, আমাদের ইতিহাসবোধ বা সমাজ চেতনার এ এক জটিল চারিত্রিক সমস্যা। এর ফলে আজাদী বা স্বাধীনতা সম্পর্কে আমাদের বোধও গভীরভাবে অসম্পূর্ণ ও খণ্ডিত হয়ে থেকেছে।

স্বাধীনতা আন্দোলন বলতে আমরা শুধু ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আন্দোলনকে বোঝাই, ভারতীয় সমাজের অভ্যন্তরে সামাজিক দাসত্ব (মহাত্মা ফুলের শব্দ) থেকে মুক্তি সংগ্রামের কথা মাথায় রাখিনা। স্বাধীনতা বলতে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের কথা বোঝাই, স্বাধীন নাগরিক বুঝিনা। স্বাধীনতা সংগ্রামী বলতে আমরা গান্ধী-নেহেরু-সুভাষ বোস থেকে শুরু করে ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ, ক্ষুদিরাম, মাস্টারদা, বিনয়-বাদন-দীনেশ, বাঘা যতীন অনেকের নামই নিই, কিন্তু ভুল করেও আম্বেদকারের নাম নিই না, সাবিত্রীবাই ফুলের নাম নিই না, বিরসা মুণ্ডা বা এমনকি বিদ্যাসাগরকেও ভুলে বসে থাকি। এর কারণ হল সামাজিক দাসত্ব থেকে মুক্তির অত্যন্ত বুনিয়াদী প্রশ্নটি আমাদের সাধারণ ইতিহাসবোধে স্বাধীনতার প্রশ্ন হয়ে ওঠেনি। অর্থাৎ যে সামাজিক দাসত্ব থেকে মুক্তি, সমাজের এক বড় নিপীড়িত অংশের কাছে মানবিক মর্যাদা বা মানবাধিকার অর্জনের গোড়ার কথা, ঐতিহাসিকভাবে এই দাসত্বের যাঁরা প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী নন এবং সেই অর্থে যাঁদের সুবিধাভোগী বা প্রিভিলেজড বলা যায়, তাঁদের কাছে এটা মোটেই ততটা কেন্দ্রীয় প্রশ্ন নয়। শ্রমিক-কৃষক খেটে খাওয়া মানুষের অধিকারের প্রশ্নের মতো দলিত জনগণের মুক্তি, আদিবাসী জনগণের মর্যাদা, নারী স্বাধীনতার প্রশ্নও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল প্রশ্ন হয়ে ওঠেনি।

আম্বেদকার বলেছিলেন কাস্ট বা জাতের সঙ্গে কোনোরকম সহাবস্থান সম্ভব নয়। নজরুলের কথাকে একটু ঘুরিয়ে বললে জাতের নামে বজ্জাতি শুধু নয়, জাতের মানেই বজ্জাতি। কাস্টকে তিনি চিহ্নিত করেছিলেন নেশন গঠনের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় অবরোধ বা এ্যান্টি-ন্যাশনাল শক্তি হিসেবে। আর তাই তিনি ডাক দিয়েছিলেন অ্যানাইহিলেশন অফ কাস্ট বা জাতি উন্মূলন বা জাতি বিনাশের। জাতি বিনাশের চেয়ে বড় আমূল পরিবর্তনের ডাক ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ভেতর থেকে কমই উঠে এসেছে। জাতি বিনাশের ডাক দেওয়া সেই আমন্ত্রিত ভাষণ আম্বেদকার দেওয়ার সুযোগ পাননি, ফলে ভাষণ প্রবন্ধ হিসেবেই প্রকাশ পায়। আম্বেদকারের এই আহ্বান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে ইনকিলাব জিন্দাবাদ বা ইংরেজ ভারত ছাড়ো বা করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গের মতো গোটা স্বাধীনতা আন্দোলনের রণধ্বনি হয়ে ওঠা উচিত ছিল, কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য এমনকি আম্বেদকারবাদীদের অনেকেও এই বৈপ্লবিক আহ্বানের সঙ্গে পরিচিত নন। অরুন্ধতী আমাদের ভাবিয়েছেন কেন রিচার্ড অ্যাটেনবরোর গান্ধী ছবিতে আম্বেদকার অদ্ভুত ভাবে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।

acvv

 

এই কাস্ট সিস্টেম বা জাতি ব্যবস্থাকে আম্বেদকার চিহ্নিত করেছেন সংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক হিন্দু ধর্মের মূল স্তম্ভ হিসেবে। অথচ এই জাতি ব্যবস্থার মূল কথা হল বংশপরম্পরায় সামাজিক বৈষম্য বজায় রাখা, তাকে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পরিণত করা। জন্মসূত্রে এমন একটা উঁচু আর নীচু ব্যবধানের বিধান তৈরি করে দেওয়া যেখানে নীচু থেকে উঁচুতে ওঠা যাবে না, বাইরে থেকে ভেতরে আসা যাবে না। সাম্য, স্বাধীনতা ও ভ্রাতৃত্ব বা মৈত্রীর নীতির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে আমাদের সংবিধান, সেই সংবিধানের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে আমাদের আধুনিক গণতন্ত্র। অথচ ভারতের ব্যাপক জনগণ আটকে রয়েছেন এই জাতিব্যবস্থার মধ্যে যে জাতি ব্যবস্থা সাম্য, স্বাধীনতা ও মৈত্রীর ভিত্তির মূলেই কুঠারাঘাত করে।

আম্বেদকার তাই খোলাখুলি বলেছেন ভারতবর্ষ যদি কোনোদিন হিন্দুরাষ্ট্রে পরিণত হয় তবে তা হবে এ দেশের ব্যাপক জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে সংবিধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত গণতন্ত্র, মাটির উপরের পাতলা পরত, নীচে মাটিটা কিন্তু যথেষ্ট গণতন্ত্র বিরোধী। জাতির বিনাশের ডাক দেওয়ার পাশাপাশি তাকে বাস্তবায়িত করার কিছু সূত্র তিনি তাঁর রচনায় ও ব্যক্তিজীবনে তুলে ধরেছেন। জাতিকে বর্ণাশ্রম বলে শ্রম বিভাজনের বৈধতার মোড়কে নিছক উৎপাদনের পদ্ধতি হিসেবে বা শ্রমের ও জ্ঞানের বিশেষীকরণের নকশা হিসেবে দেখেননি, স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে জাতি শ্রম নয়, শ্রমিকের বিভাজন। তাই জাতিকে ভাঙতে হলে শ্রমিককে, শ্রমজীবী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। জাতির সীমানা ধরে রাখা হয় জাতির ভেতরে বিবাহকে আবদ্ধ রেখে। তাই সেই সীমানা ভাঙার জন্য জাতির সীমানা পেরিয়ে জাতি বহির্ভূত বৈবাহিক বন্ধনের উপর জোর দিয়েছেন। জীবনের শেষপর্যায়ে এসে জাতিকে অস্বীকার করার জন্য ধর্ম পরিবর্তন করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেছেন।

জাতি বহির্ভূত বিবাহ হোক বা ধর্ম পরিবর্তন অথবা শ্রমজীবী জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অধিকার – এসবই আম্বেদকারের নেতৃত্বে রচিত ভারতীয় সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। আমরা সংরক্ষণের জন্যই সবচেয়ে বেশি আম্বেদকারকে স্মরণে রেখেছি, অথচ আম্বেদকারের কাছে সংরক্ষণ ছিল, সামাজিক বৈষম্যকে প্রশমিত করার এক প্রয়োজনীয় আশু পদক্ষেপ, জাতিকে সমূলে নাশ করার কোনো বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নয়। আজ অবশ্য সংরক্ষণ থেকে শুরু করে সংবিধানের সমস্ত অধিকারগুলিই আক্রান্ত ও বিপন্ন। লাভ জেহাদ নিরোধক আইনের নামে ধর্ম পরিবর্তন ও নিজের পচ্ছন্দমতো জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার, দুইয়ের ওপরেই কুৎসিত আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে। আজ ধর্মবহিভূত বিবাহে নিষেধাজ্ঞা, আগামীদিনে দ্রুতই নেমে আসবে জাতিবহির্ভূত বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা, (খাপ পঞ্চায়েত ও তথাকথিত ‘অনার কিলিং’-এর মাধ্যমে সামাজিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার চেষ্টা অনবরতই চলছে) এবং পরিবারের স্বীকৃতি বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিবাহের উপর নিষেধাজ্ঞা।

জাতি, শ্রেণী ও লিঙ্গের টানাপোড়েনের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে ভারতীয় সমাজে বৈষম্য ও নিপীড়নের ঠাসবুনট। সংবিধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত গণতন্ত্রের উপরি পরত সেই বুনটকে কিছুটা দুর্বল করলেও আজ ফ্যাসিবাদী মতাদর্শে ও নেতৃত্বে পরিচালিত ভারতীয় রাষ্ট্র আবার সেই ঠাসবুনটের মধ্যে সমাজকে আটকে রাখতে চাইছে। গেটেড কমিউনিটির মতো এক রেজিমেন্টেড সমাজ যেখানে সরকার বিরোধিতার মানেই দেশদ্রোহ এবং বিজেপি’র বিরুদ্ধে কথা বলার মানেই হিন্দুবিরোধিতার তকমা গায়ে লাগিয়ে নেওয়া।

ডেনমার্কে নির্বাসনে থাকা অবস্থায় জার্মান কবি ও নাট্যকার বের্টোল্ট ব্রেখট লিখেছিলেন “In the dark times will there also be singing? Yes, there will be singing. About the dark times”। হিটলারী জমানার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের ভাষা এভাবেই ছড়িয়ে পড়েছে সময় ও দেশের সীমানা পেরিয়ে, ফ্যাসিবাদী নিষেধাজ্ঞা ও নীল নকশাকে অগ্রাহ্য করে। অরুন্ধতী এখনও নির্বাসিত নন, যদিও মোদী জমানার আগমনের আগে থেকেই আদালত অবমাননার পুরস্কার তাঁর ভাণ্ডারে জমা হতে শুরু করেছে। দাভোলকার, পানসারে, কালবুর্গী, গৌরী লঙ্কেশদের জীবন থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে, আনন্দ তেলতুম্বরে ও ভারভারা রাওদের জেলে পুরে দেওয়া হয়েছে, সোস্যাল মিডিয়া ও গোদী মিডিয়াতে প্রতিদিন রাশি রাশি ঘৃণা উগরে দেওয়া হচ্ছে সত্য কথা সরাসরি সহজভাবে বলার স্পর্ধার বিরুদ্ধে। সেই সমস্ত শিল্পী, গায়ক, অভিনেতা ও হাস্যরস পরিবেশকদের বিরুদ্ধে যাঁরা আচ্ছে দিনের অন্ধকারে মব লিঞ্চিং বাহিনীর ফতোয়াকে উপেক্ষা করে ভালোবাসার ও মানবতার কথা বলার অভ্যাসটাকে ধরে রেখেছেন। যাঁরা হাল ছাড়েননি।

ট্রাম্পের ভারত সফর ও দিল্লীতে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক হিংসার ঠিক অব্যবহিত পরেই সিএএ-এনপিআর-এনআরসি বিরোধী লেখক শিল্পীদের এক সর্বভারতীয় কনভেনশনে সেই হাল না ছাড়া প্রতিরোধের বার্তা শুনিয়েছেন অরুন্ধতী। বলেছেন ভারতে গণতন্ত্র যখন কোভিড১৯-এর মতো গভীর অসুখে আক্রান্ত তখন আমাদের ঝুঁকি নেওয়ার সাহস চাই, সত্যি কথা বলার প্রস্তুতি চাই। সাহসী সাংবাদিক, সাহসী আইনজীবী, সাহসী লেখক, কবি, সঙ্গীতশিল্পী, চিত্রশিল্পী, চলচ্চিত্রশিল্পী – সাহসের সৌন্দর্য আজ আমাদের চাই। আজাদী সংকলনের ছত্রে ছত্রে ছড়িয়ে রয়েছে সেই সাহসের সৌন্দর্য। ২০১৯এর নির্বাচনের আগে তাঁর রচনায় আমরা মোদী জমানা থেকে নির্বাচনী মুক্তিলাভের তীব্র আবেদন ও আশার অনুরণন শুনেছি। সেই আশার বিপরীতে ২০১৯এর নির্বাচনে মোদী জমানার দ্বিতীয় দফা শুরু হয়, ফ্যাসিবাদের নগ্ন চেহারা পরিণত হয় দৈনন্দিন বাস্তবতায়। এই বিপরীত পরিস্থিতিতেও অরুন্ধতীর রচনায় কিন্তু কোন হতাশা ও ক্লান্তির ছোঁয়া নেই। তার বিপরীতে ধ্বনিত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরোধের ধৈর্য্য ও প্রত্যয়। ফ্যাসিবাদী শাসকের বিরুদ্ধে সত্যি কথা বলার সুন্দর সাহস এবং সেই সাহসে অটল থাকার শান্ত প্রতিজ্ঞায় দৃপ্ত অরুন্ধতীর এই প্রতিবাদের ভাষা প্রতিরোধের আগুন হয়ে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক।

- দীপঙ্কর ভট্টাচার্য  

fffba

বনের জমিতে বসবাসকারী তপশীল জাতি ও উপজাতি মানুষের পাট্টা দাও এবং বনের সম্পদের ওপর অধিকার সুনিশ্চিত করো। একদিকে বনসৃজনের নাম করে গরিব, আদিবাসী, বাউরী মানুষের জমির ফসল নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে, আবার অন্যদিকে উচ্চবর্ণের আধিপত্য কায়েম করে বনের গাছ কেটে ফুটবল গ্রাউন্ড করা হচ্ছে। আদিবাসীদের বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক জ্বালানি কেড়ে নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে যদিও বনের শুকনো ডালপালা ও ফলমূলের ওপর আইনি অধিকার এই মানুষেরই। এইসব প্রশ্নে বেশ কিছু দিন যাবত আন্দোলন চলছে। সর্বশেষ, গত ১১ জানুয়ারী বাঁকুড়ায় ডিএফও-কে ডেপুটেশন সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের তরফ থেকে। ডেপুটেশনে নেতৃত্ব দেন জেলা সম্পাদক বাবলু ব্যানার্জি সহ ফারহান হোসেন খান, অশোক বাউরি।

দাবি রাখা হয় –

(১) দীর্ঘদিন ধরে বনের জমিতে বসবাসকারী এসসি, এসটি’দের বাস্তু-চাষের পাট্টা দিতে হবে,
(২) বনের শুকনো ডাল-পাতা-ফল-মাকুড়ের অধিকার গরিব মানুষদের দিতে হবে,
(৩) খেমুয়াতে গরিব আদিবাসীদের ফসল নষ্ট করে, বাউরি পাড়ার ছেলেদের খেলার মাঠে বনসৃজনের নামে গাছ লাগানো হল, অপরদিকে কোদালিয়াতে বড় বড় শালগাছ কেটে উচ্চবর্ণের ছেলেদের জন্য খেলার মাঠ করা হল আদিবাসীদের বিরোধিতা সত্বেও — এই দ্বিচারিতার বিচার চাই।
(৪) এসসি, এসটি ও বনগ্রামের বাসিন্দাদের নিয়ে বন কমিটি গড়তে হবে।

ccbbddaaa

সম্প্রতি ঋণগ্রস্ত নাগরিকদের চাপে মাইক্রো ফিন্যান্স কোম্পানির জুলুম রুখতে আসাম সরকার রাজ্য বিধানসভায় পাস করিয়েছে মাইক্রো ফিন্যান্স নিয়ন্ত্রণ আইন। এই ধরনের আইন ইতিপূর্বে অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক সরকার তৈরি করেছে। ঋণ পরিশোধের প্রশ্নে যাতে জুলুমবাজি বন্ধ হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একই দাবি রেখেছেন ঋণ জর্জরিত আন্দোলনকারীরা।

ঋণ মুক্তি কমিটির রাজ্য কনভেনশন থেকে ৮ জানুয়ারী রাজ্যব্যাপী ব্লকে ব্লকে ডেপুটেশন, অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচী সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দাবি ছিল – (১) মাইক্রোফিনান্স সংস্থার এজেন্টদের জুলুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। মাইক্রোফিনান্স সংস্থার উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার জন্য উপযুক্ত আইন প্রণয়ন করতে হবে। (২) গরিব জনগণের স্বনির্ভর গোষ্ঠী সহ সমস্ত ধরনের ঋণ ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুকুব করতে হবে। (৩) ২ বছর ঋণের কিস্তি আদায় স্থগিত রাখতে হবে। এছাড়া, সিদ্ধান্ত ছিল, নয়া কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের সমর্থন ও সংহতিতে কেন্দ্রের তিনটি কৃষি আইন ও বিদ্যুৎ বিল, ২০২০ বাতিলের দাবি তোলা হবে। সেই অনুযায়ী পূর্ব বর্ধমান জেলার পুর্বস্থলী ২নং ব্লকের বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ সংগঠিত করা হয়। দীর্ঘ সময় বিক্ষোভ অবস্থানের পর বিডিওর কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হল। এবং মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বিডিও মারফত একটি স্মারক পত্র পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

রায়না ২নং ব্লকের বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ অবস্থান সংগঠিত করা হল। এখানে মূলত ঋণ মুক্তি কমিটির উদ্যোগে ঋণগ্রস্ত মহিলাদের নিয়ে কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছিল।

জামালপুর ব্লকে বিডিও এবং থানা থেকে অনুমতি না দেওয়ার ফলে ব্লকের গ্রামাঞ্চলে ৮ জানুয়ারী ও ৯ জানুয়ারী দুই দিন পর পর দুই দিকে মিছিল করা হয়। এখানে নেতৃত্ব দিয়েছেন ঋণ মুক্তি কমিটির ব্লক সভাপতি অর্চনা মল।

৭ জানুয়ারী কালনা ২নং ব্লকের অকালপোষ গ্রাম পঞ্চায়েতের আগ্রাদহ গ্রামে সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতির উদ্যোগে সাবিত্রী বাই ফুলে ও ফাতেমা সেখ-এর স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। সাথে সাথে নয়া কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লীতে আন্দোলনরত কৃষকদের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানান হয়। এবং উত্তর প্রদেশ সহ সমস্ত জায়গার নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়। এই কর্মসূচীর নেতৃত্ব দেন জেলা সম্পাদিকা কমরেড সুমি মজুমদার।

dde

 

১০ জানুয়ারী মেমারী ১নং ব্লকের নিমোতে জেলার ৭০ জন কর্মীর উপস্থিতিতে প্রয়াত জেলা কমিটির সদস্য কমরেড সুনীল কুমার বসুর স্মরণ সভা করা হল। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের পলিটবুরো সদস্য কমরেড কার্তিক পাল। প্রথমে মাল্যদান ও এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। তারপর রায়না থানার ছোট বৈনান গ্রামের বর্ষীয়ান পার্টি সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ কমরেড বিদ্যুৎ সিনহা কমরেড সুনীল বসু স্মরণে বক্তব্য রাখেন। জেলা সম্পাদক কমরেড সলিল দত্ত ও কমরেড কার্তিক পাল সুনীল বসুর রাজনৈতিক জীবন ও পার্টি ও জনগণের জন্য তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং কমরেড সুনীল বসুর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। কমরেড সুনীল কুমার বসু লাল সেলাম।

জেলা কর্মী বৈঠক থেকে থেকে ধর্মতলার ‘অন্নদাতাদের সংহতিতে বাংলা” কর্মসূচীতে যোগদান, ১৮ জানুয়ারী কালনা ও জামালপুর ব্লকে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে মহিলা সংসদ ও ২৬ জানুয়ারী বিধানসভার এলাকায় ট্রাক্টর নিয়ে কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত করার সিদ্ধান্ত হয়। বিধানসভা এলাকার গ্রামে বৈঠক ও জনগণের কাছে যাওয়ার কর্মসূচী নেওয়া হয়। জানুয়ারী মাসের শেষ সপ্তাহে বর্ধমান শহরে বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষকে নিয়ে কনভেনশন সংগঠিত করা হবে।

drrr

 

উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটে এই কর্মসূচী জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। অবস্থানকারীরা এখানে ঋণ মুক্তি কমিটির রাজ্য স্তরের নেতা দেবব্রত বিশ্বাসের নেতৃত্বে বসিরহাট ১ বিডিও মারফত মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি সনদ পাঠান। হুগলির ধনেখালি, পোলবা ও পান্ডুয়া ব্লকে সংশ্লিষ্ট বিডিওদের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবিসনদ পাঠানো হয়। ধনেখালির মদনমোহনতলা ও পান্ডুয়ার তিন্না মোড়ে অবস্থান কর্মসূচী চলে সারাদিন। হাওড়ার আমতা ১ নং ব্লকে ঋণ মুক্তি কমিটির সংগঠক অঞ্জনা মন্ডল অবস্থান কর্মসূচীতে নেতৃত্ব দান করেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজে প্রগতিশীল মহিলা সমিতি ও আয়ারলা যৌথভাবে অবস্থান কর্মসূচী সংগঠিত করে। সম্প্রতি নদীয়ার চাকদহে গড়ে উঠেছে ঋণ মুক্তির আন্দোলন। সেখানে ওইদিন বন্ধন ব্যাঙ্কে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয় এবং বিডিওকে ডেপুটেশন দিয়ে ঋণগ্রস্ত মহিলাদের দাবিগুলি সম্পর্কে অবহিত করেন আন্দোলনকারীরা।

ccsag

দিল্লীর কৃষক আন্দোলন প্রায় দেড় মাস অতিক্রম করল। একদিকে বর্বর কর্পোরেট দালাল বিজেপি’র সরকার বিপরীতে অনমনীয় কৃষকেরা। প্রবল শীত এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসকে মোকাবিলা করে চলা এই আন্দোলন সারা দেশেই এক নতুন উদ্দীপনা জাগিয়েছে, সারা দেশের গণতান্ত্রিক মানুষ এই আন্দোলনের সমর্থনে দাঁড়াচ্ছেন। তেমনই ৭ জানুয়ারী চুঁচুড়ার নাগরিক সমাজ এই আন্দোলনের সমর্থনে ঘড়ি মোড়ে বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচীতে সামিল হয়েছিলেন। এআইপিএফ, সেভ ডেমোক্রাসি, এপিডিআর এবং ‘প্রকৃতি’ আহুত এই কর্মসূচীতে সামিল হয়েছিলেন স্থানীয় ব্যাণ্ডেল গুরদোয়ারা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, পরিবেশ একাডেমি সহ ব্যক্তি মানুষেরাও। দিল্লীর কৃষক আন্দোলনের শহীদস্মরণে প্রস্তুত শহীদ বেদিতে মাল্যদান ও নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সভার কাজ শুরু হয়। কবিতা গান, বক্তব্য ও শ্লোগানে জানানো  হয় কৃষক আন্দোলনের প্রতি সংহতি, ফ্যাসিস্ট বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। বক্তব্য রাখেন সনৎ রায়চৌধুরী (এআইপিএফ), অমিতদ্যুতি কুমার ও কমল দত্ত (এপিডিআর), চঞ্চল চক্রবর্তী ও বিপ্লব দাস (সেভ ডেমোক্রাসি), মুকুল কুমার (সারা ভারত কিষাণ মহাসভা), গোপাল রায় (কৃষি মজুর সমিতি), শ্যামল ঘোষ (প্রকৃতি), কুণাল দাস (পরিবেশ একাডেমি) পৃথ্বীপাল সিং (গুরদোয়ারা ওয়েলফেয়ার সংগঠন); গান গেয়ে শোনান পশ্চিমবঙ্গ গণ সংস্কৃতি পরিষদের নীতীশ রায় এবং পৃথা মুখার্জি, সমর চক্রবর্তী, আবৃত্তি করেন কল্যাণ সেন, দিলীপ সোম, কিশোর চক্রবর্তী।

dareecaaa

নরেন্দ্রপুরের চিন্তামনি কর বার্ডস স্যাঙচুয়ারি (সিকেবিএস)-তে ছাঁটাই হওয়া বারোজন অস্থায়ী কর্মীদের কাজে যোগদান করার দাবি মেনে নিল রাজ্য বনদফতর কর্তৃপক্ষ। বকেয়া এগারো মাসের বেতনও পাবেন কর্মীরা। দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সিকেবিএস গেটে পিকেটিং চালাচ্ছিলেন তাঁরা।

আন্দোলনের খবর পেয়ে আমাদের স্থানীয় পার্টির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় নামা হয়। এলাকার কিছু প্রগতিশীল মানুষকে সামিল করা, ছাত্রছাত্রীদের এর পাশে দাঁড় করানো, এলাকায় বাজার ও জনবহুল জায়গায় পোস্টার মারা ইত্যাদি মারফত জনমতের চাপ সৃষ্টি করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এরপর জেলার যুগ্ম লেবার কমিশনারের সাথে দাবিপত্র পেশ করে তাঁকে বাধ্য করা হয় হস্তক্ষেপ করতে। ফলত রেঞ্জার সাহেবের সাথে বৈঠক করে কাজে পুনর্বহাল ও বকেয়া এগারো মাসের বেতনের দাবি আদায়ের স্বীকৃতি আদায় করা হয়। নিয়মের বাইরে বিভিন্ন বাড়তি কাজ যা এতদিন করিয়ে নেওয়া হতো জুলুম হিসেবে, তা আর হবে না বলে রেঞ্জার মেনে নেন। গত এগারোই জানুয়ারী যুগ্ম কমিশনার-এর সাথে বৈঠকে এআইসিসিটিইউ-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কমরেড কিশোর সরকার, কমরেড নবকুমার বিশ্বাস ও কমরেড সুজয়।

এই বিজয়ের ফলে কর্মীদের ও এলাকায় ওয়াকিবহাল মহলে সাড়া পড়েছে। কিন্তু কাজটি কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে হয় বলে  আবার অপসারণের সম্ভাবনা ও আশঙ্কা কর্মীদের মনে থেকেই যাচ্ছে।

vadvad

জাতীয় মহিলা কমিশনের সদস্যা চন্দ্রমুখী দেবী বদায়ুঁতে ধর্ষণ-অত্যাচারে মৃতা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বাড়ি গিয়ে বলেন, মেয়েদের যখন তখন একা পথে বেরোনোর জন্যেই এইসব ঘটনা ঘটে। আরও বলেন, ঐ মহিলা যদি কোন বালককে সঙ্গে নিয়েও মন্দিরে যেতেন তাহলে এই বিপদ হত না।

এই মন্তব্যকে তীব্র ধিক্কার জানিয়ে সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতি সহ দেশের বিভিন্ন মহিলা সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে জানান – দেশে যখন নারী নির্যাতন ক্রমবর্ধমান তখন নারীর অধিকার মর্যাদা সুরক্ষা নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে এই ধরনের মন্তব্যের মাধ্যমে সামন্ততান্ত্রিক পিতৃতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করে নারীকে দায়ী করে আসলে অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তারা চন্দ্রমুখী দেবীর অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেন।

arrr

 

গত ৯ জানুয়ারী, বিহারের পাটনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে বদায়ুঁর ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা হয়। পাটনার এক বিক্ষোভ সমাবেশে সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতির সর্বভারতীয় সম্পাদক কমরেড মীনা তেওয়ারি যোগী আদিত্যনাথের পদত্যাগ দাবি করেন। চন্দ্রমুখী দেবীর মন্তব্যে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে অবিলম্বে এনডব্লুসি’র ঐ সদস্যার পদত্যাগ দাবি করেন। উত্তর প্রদেশেও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ড মধ্যপ্রদেশেও ধর্ষণ-খুনের ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গেও সম্প্রতি দুই আদিবাসী বালিকা ও মহিলাকে ধর্ষণ করা হয়। অপমানে একটি বালিকা আত্মঘাতী হয়।

dddaassar

সংঘ পরিবারের ‘লাভ জিহাদ’ সম্পর্কিত প্রচার সরকারী নীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে উত্তর প্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের বিজেপি শাসিত সরকারের আদেশে। এই নতুন রায়ে ‘কানুন-বহির্ভূত’ ধর্মান্তরিতকরণকে জামিন-অযোগ্য অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে বলপূর্বক ও প্রতারণামূলক ধর্মীয় রূপান্তরের উদাহরণ দেখিয়ে ধর্মান্তরীকরণের আগে জেলাশাসকের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যদিও, এই আইন হিন্দুত্ত্ববাদীদের মুসলিম-বিরোধী, মহিলা-বিরোধী ও আম্বেদকরবাদ-বিরোধী হিন্দুরাষ্ট্রের স্বপ্নের অন্যতম অংশ। যোগী আদিত্যনাথ একটি সাম্প্রতিক ভাষণে খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন লাভ-জিহাদ দমন করার জন্য তারা খুব কঠিণ আইন আনবেন। এই ভাষণ এবং এই আইন, ২০২০ থেকে তৈরি করা এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ, যা বলে মুসলিমরা দলে দলে হিন্দু মহিলাদের বলপুর্বক ধর্মীয় রূপান্তর করিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের অন্তরায় দাঁড়িয়ে এই আইন যা বলে “প্রত্যেকের ভাবনার, বিবেকবোধের এবং ধর্মের অধিকার আছে; নিজের ভাবনা বা ধর্মাচরণ পরিবর্তনের অধিকারও এর অন্তর্ভুক্ত, একা বা দলবদ্ধভাবে, প্রকাশ্যে বা একান্তে এই অধিকার সবার রয়েছে”। এই আইন স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের বিবিধ প্রকৃতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে, একইসাথে নাগরিকদের নিজের সাথী পছন্দ করার এবং নিজের পছন্দের ধর্মে রূপান্তরের পথে অন্তরায় হবে।

মুঘলদের বারংবার এই বিতর্কে এনে বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে যে মুঘল শাসকরা উপমহাদেশে ‘লাভ জিহাদ’ করেছেন বহুলভাবে। এবং এর মাধ্যমে প্রচার করার চেষ্টা হয়েছে আজকের মুসলিমরাও একই পথে চালিত এবং এটি মুসলিম পরম্পরা। কিন্তু ইতিহাস কি প্রমাণ করে? অড্র্যে টুশকের সাথে একটি কথোপকথন থেকে আমরা তা বোঝার চেষ্টা করতে পারি।

মুকুলিকা আর: নীচের বিবৃতিগুলির ব্যাপারে আপনার কি মতামত? “লাভ জিহাদ কোন নতুন জিনিস নয়। হিন্দু সম্প্রদায় থেকে এর সূত্রপাত নয়। এর উৎপত্তি মুঘলদের হাতে।” (চেতনা শর্মা, দূর্গা বাহিনীর আহ্বায়ক)

“ইসলামিক বই ‘তাবকাত-ই-আকবরী’তে লেখা রয়েছে আকবর জোধাবাঈকে মুসলিম ধর্মমতে বিয়ে করেছিলেন। ‘নিকাহ’-এর সময়ে তাঁর ধর্মান্তরণ হয় এবং নাম হয় মারিয়ম-উয-যামানি।” (‘লাভ জিহাদের ইতিহাস’, হিন্দুজন জাগৃতি সমিতি)    

অড্র্যে: মুঘল সম্রাটরা কিছু রাজপুত সাম্রাজ্যের অনুগত্যলাভের জন্য এবং মৌর্য্য সাম্রাজ্যের ক্ষমতায় প্রবেশ করার জন্য বিশেষ কিছু রাজপুত মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। এটা রাজনৈতিক কৌশল এবং ধর্মের সাথে এর কোনো যোগাযোগ ছিল না। বরং আকবর সারিয়া আইনের বিপক্ষে গিয়ে উলামার বিরাগভাজন হয়েছিলেন চারজনের বেশি মহিলার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ায়। বহু মানুষ আজকের দিনে মুঘলদের ধর্ম প্রচারক মনে করেন, কিন্তু তা আধুনিক কল্পনা ছাড়া কিছু নয়। প্রাক-আধুনিক শাসক হওয়ার কারণে মুঘলরা যত জয় করেছিলেন তত রূপান্তর করেননি।

মুকুলিকা: আরেকটি বহুলপ্রচারিত মত হল, রাজপুত মহিলারা জোহর-প্রথার উদ্ভাবন এবং প্রসার করেছিলেন মুসলিম তথা মুঘল পুরুষদের হাত থেকে বাঁচার জন্য। এই বিষয়ে আপনার মত?

অড্র্যে: প্রাক-আধুনিক ভারতে সম্ভ্রান্ত পরিবারের অঙ্গবিশেষে জোহর ছিল বহুলপ্রচরিত। আমি খুব জোরের সাথে বলছি, এটি সম্ভ্রান্ত শ্রেণির প্রক্রিয়া, সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রচলন ছিল না। রাজপুত মহিলারা জোহর করতেন শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে, যাদের মধ্যে তাঁদের সমশ্রেণীর এবং তাঁদের শাসক হিন্দুরাও পড়তেন। রাজনৈতিক বিভাজন ছিল খুব পরিষ্কার, ধর্মীয় বিভাজন যদিও খুব অস্পষ্ট।

মুকুলিকা: দক্ষিণপন্থী এবং ঔপনিবেশিক লেখায় মুঘল হারেমগুলিকে ‘সমস্যাপ্রবণ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, যাতে হিন্দু মহিলাদের বন্দী রাখা হত। ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় হারেম সম্পূর্ণ আলাদা এই সব বর্ণনা থেকে। আপনি এব্যাপারে কিছু বলবেন?

অড্র্যে: হারেমে রাজকীয় মুঘল-মহিলারা থাকতেন, একইরকম ব্যবস্থা ছিল রাজপুতদের মধ্যেও। উভয়ক্ষেত্রেই এই মহিলাদের ওপর কিছু বিধিনিষেধ ছিল এবং তারা কিছু স্বাধীনতাও উপভোগ করতেন। কিন্তু ‘লাভ জিহাদে’র মতো পাগলের প্রলাপ বকার মাধ্যমে এই দলগুলি যে প্রচার চালানোর চেষ্টা করছে, এই পৃথিবী তার থেকে বহু দূরে। এরা লাভ জিহাদ বলে চেঁচায় এবং আমি শুধু দেখতে পাই ‘ঘৃণার যুদ্ধ’ যার মাধ্যমে এই হিন্দুত্বের প্রচারকরা ভারতীয় মহিলা, অল্পসংখ্যক এবং সকলের ধর্মীয় স্বায়ত্ত্বের অধিকারকে বিপন্ন করে চলেছে।

মুকুলিকা: এরকম কোনো প্রমাণ রয়েছে যা দিয়ে দেখানো যেতে পারে সে সময়ে বিয়ে ছাড়াও অন্য পদ্ধতিতে মুঘলরা গণরূপান্তর করেছেন? তাছাড়াও, ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘলদের আগেও বহু মুসলিম শাসক থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র মুঘলদের ওপর নিবিষ্ট এই আক্রমণের কারণ কী?

অড্র্যে: মুঘলরা ইন্দো-মুসলিম শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চর্চিত কারণ মানুষ তাঁদের সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে, অথবা তারা মনে করে তারা বেশি জানে। সত্যি কথা বলতে, আমার মনে হয়, খুব কম মানুষই প্রাক-মুঘল যুগের কিছু ইন্দো-মুসলিম শাসকদের নাম জানেন। এর কোনো সুরাহা আমি অদূর ভবিষ্যতে আশা করি না, কারণ হিন্দুত্ববাদী বর্ণনায় ইতিহাসের বিষয়ে অজ্ঞতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ইন্দো-মুসলিম শাসন ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক লম্বা, সমৃদ্ধ এবং বিবিধ সময়কাল, বেশিরভাগ মানুষ বেশ অবাক হবেন এই অদ্ভুত সময়কাল সম্বন্ধে জানলে। মুঘলরা কোনোদিন রাষ্ট্রের অধীনে বিশাল ধর্মীয় রূপান্তরের আয়োজন করেননি। তাঁরা ইসলামে রূপান্তরের ব্যাপারে কখনোই বিশেষ ভাবিত ছিলেন না (এর কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে)। ইতিহাসে এই গণরূপান্তরের কল্পনা এবং তা নিয়ে মোহাবদ্ধতা একটি আধুনিক ঘটনা, যা সমসাময়িক উদ্বেগের প্রতিফলন এবং অশুভ রাজনীতির পাথেয়। এই ভুল ইতিহাস হিন্দুত্ববাদীদের হাতে ভারতীয়দের ধর্মীয় স্বাধীনতা হননের হাতিয়ার, মূলত বিস্তৃত পরিসরে হিন্দু-ধর্ম পালনের অধিকার এবং অহিন্দু হওয়ার বা হতে চাওয়ার অধিকারকে হননের হাতিয়ার।

মুকুলিকা: যৌন অনাহারভুক্ত, লম্পট এবং হতাশ, পশু-স্বরূপ এবং বর্বরোচিত, ক্রমান্বয়ে অবুঝ হিন্দু মহিলাদের বিয়ের প্ররোচনা দেওয়া – এই কথাগুলি ভারতের প্রচলিত বর্ণনায় মুঘল এবং মুসলিমদের পরিচয়। কীভাবে এই ব্যাখ্যাগুলির বিরোধ করা যায়?

অড্র্যে: এই মুসলিম বিরোধী বক্রোক্তিগুলির সূচনা আধুনিক সময়ে, তাই সেখান থেকেই আমাদের শুরু করতে হবে। মানুষকে তাদের আধুনিক পক্ষপাত শনাক্ত করতে হবে এবং মোকাবিলা করতে হবে, যা খুব সোজা কাজ নয়। মুসলিমভীতি ভারতে প্রসারিত এবং দিন দিন আরও খারাপ দিকে চলেছে, বহু লোকের কাছেই এটি একটি গ্রহণযোগ্য সংস্কার। মানুষকে এটা বদলাতে হবে এবং তারপর বর্ণবাদ-বিরোধী আরও কঠিন কাজে হাত লাগাতে হবে, ব্যক্তি-বিশেষের জন্য এবং সমগ্র সমাজের স্তরে।

আজকের দিনে ঘৃণা চিহ্নিত করে কাটিয়ে ওঠার পরেই আমরা ইতিহাসের ওপর দৃষ্টিপাত করতে পারি এবং আরও বেশি জানতে পারি, নিজেদের পক্ষপাত নথিভুক্ত না করে। বহু বিশিষ্ট ঐতিহাসিক ভারতীয় ইতিহাসের এই বিশেষ অধ্যায়ের বিশ্লেষণ করেছেন, যাদের কেউ এই হিন্দুত্ববাদী বিবরণের সমর্থন করেন না। এর থেকে আমরা বর্তমানে ফিরে আসতে পারি। মানুষজনের ইতিহাসের ব্যাপারে এই আধুনিক কল্পকথা ছেড়ে আসল ইতিহাসের সন্ধান করা উচিত। যতক্ষণ তা না হচ্ছে, মানুষ এই কাল্পনিক লাভ জিহাদের জালে আটকে থাকবে এবং ভারতীয় ইতিহাসের জটিলতা ও ঘটনাক্রমের সম্বন্ধে কোনো ধারণাই তাদের থাকবে না।

(অড্র্যে ট্রুশকে নেওয়ার্কের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসের সহযোগী অধ্যাপক। মুকুলিকা আর নিউ দিল্লীর ভারতীয় সাংস্কৃতিক ফোরামের সম্পাদকীয় গোষ্ঠীর সদস্য।

indianculturalforum.in-এ প্রকাশিত সাক্ষাৎকার)

দেশব্রতীর জন্য অনুবাদ: কৌশিকী ভট্টাচার্য

ceeaae

আইসার উত্তর প্রদেশ রাজ্যের সহ-সভাপতি কমরেড নিতিন রাজ। সমান নাগরিকত্ব আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ তিনি ওই রাজ্যে। একারণে একাধিকবার জেল যেতে হয়েছে তাঁকে। শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক ভাবে নিজের মত প্রকাশ করলেও আজ সাধারন নাগরিককে জেলে পোড়া শুরু করেছে উত্তর প্রদেশের যোগীরাজ। আজ আবার, নিতিনের জামিনের আর্জি নামঞ্জুর করে তাকে হাজতে পাঠালো বিজেপির এই ভন্ড যোগী। বর্তমানে জেএনইউ-র ছাত্র, নীতিন গত কয়েক বছর ধরে ওই রাজ্যে আইসার একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন এবং লক্ষ্ণৌ বিশ্ববিদ্যায়ের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা।

dddddddeee

ইতিহাসে পড়েছি ঘাঁটি গেড়ে রাজায় রাজায় যুদ্ধের কথা। এ যুদ্ধ সেরকম যুদ্ধ নয়, নিজের চোখে দেখা কৃষকের আত্মরক্ষার এক ক্ষমতার যুদ্ধ। প্রকৃতির চরম প্রতিকুলতাকে অমান্য করে প্রচন্ড ঠান্ডা ও বৃষ্টির প্রকোপকে হজম করে নেওয়ার ক্ষমতা। হলুদ, লাল, সবুজ, সাদা, নীল – হরেক রকমের পতাকার মাঝে লাঙ্গল চিহ্ন নিয়ে উড়ছে মিছিলে, ট্রাক্টর-ট্রলিতে, সভাস্থলে –  আওয়াজ উঠছে, মোদী সরকার “তিন কালা আইন” অবিলম্বে প্রত্যাহার কর। উত্তপ্ত জনসমুদ্রে ঠান্ডায় অন্ধকারে কাঠের আগুনের সেকা মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে মুহুর্মুহু ধ্বনিত হচ্ছে এ লড়াই দেশের স্বার্থে অন্নদাতার লড়াই চলছে চলবে, এ লড়াইয়ে জিততে হবে। এই ইচ্ছাশক্তি কোথা থেকে জেগে উঠলো? প্রশ্ন সবার মুখে মুখে ঘুরলেও চিন্তায় কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে মোদী সরকারের।

প্রথম সবুজ বিপ্লবের কারসাজিতে বিধ্বস্ত ক্ষতবিক্ষত পাঞ্জাব, হরিয়ানার সৈনিক কৃষক বুঝে গেছে পুঁজির চরম কৃষক শোষণের মর্মবস্তুকে। এবার তাকে আরো পরিপুষ্ট করতে মোদী তৈরি করেছে দ্বিতীয় সবুজ বিপ্লব ঘটানোর জন্য কোম্পানি রাজের স্বার্থে তৈরি করা তিন কৃষি আইন। ভারতের আকাশে অসাংবিধানিক এই সিঁদুরে মেঘ অনতিবিলম্বে অন্নদাতাদের ধ্বংস করে দেওয়ার আগেই তাকে নির্বিষ করে দিতে হবে, চাই কালা আইনের প্রত্যাহার!

ইতিমধ্যে টিকরি, সিংঘু, গাজীপুর সীমানার যুদ্ধ স্থল থেকে কৃষক আন্দোলনের নেতৃত্ব এআইকেএসসসি’র অনুমোদন ক্রমে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীর সাত সাত বার সন্ধি আলোচনার বৈঠক ব্যর্থ হয়েছে। আন্দোলনকে বিপথগামী করার জন্য, কখনো মাওবাদী, খালিস্তানপন্থী, পাকিস্তানি, চীনাপন্থী, কট্টর বামপন্থী, ইত্যাদি অপপ্রচার চালিয়ে, কালক্ষয় করেও আন্দোলনকে ব্যর্থ করে দিতে মোদী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে ক্রমাগত দিল্লীর যুদ্ধের সীমানায় ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে একের পর এক কৃষক জমায়েত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষক নেতৃত্ব সংকল্প করেছে এই আন্দোলন দেশের সমস্ত গ্রাম-গ্রামান্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে।

৪ থেকে ৬ জানুয়ারী তিন দিন দিল্লীর কৃষক আন্দোলনের পীঠস্থানে সারা ভারত কিষান মহাসভার পক্ষ থেকে স্রেফ শিক্ষা নেওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। টিকরি সীমানায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাজা রাম সিংয়ের সাথে গিয়ে উপস্থিত হলাম এক বিশাল সমাবেশের মধ্যে। একদিকে বড় মঞ্চে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ একের পর এক বক্তৃতা দিচ্ছেন, পরে জানলাম মঞ্চটি ওই দিনের জন্য সংগ্রামী মহিলা কৃষকদের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। পাঞ্জাবের কৃষক নেতা কমরেড গুরনাম সিং আমাদের মঞ্চের পাশে ডেরায় বসার ও বক্তব্য রাখার ব্যবস্থা  করলেন। শৃংখলাবদ্ধ কবে সব চলছে একের পর এক, কখনো হাততালি, কখনো উঠে দাঁড়িয়ে “কালা আইন ওয়াপাস লো” শ্লোগান উঠছে। হরিয়ানা, কর্ণাটক থেকে জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিবেশন হল। ভাষার কারণে কর্ণাটকী সংগীত হাততালি না পেলেও তাদের উপস্থিতি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বক্তব্য রাখলেন রাজা রাম সিং, যুক্তিগ্রাহ্য আবেগঘন বিহার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের বক্তব্য শুনে হাততালি পরল, প্রায় শেষ মুহূর্তে ডেকে উঠল আকাশ, নেমে গেল বৃষ্টি। বক্তার তালিকায় নাম থাকলেও প্রাকৃতিক কারণে এই প্রতিনিধির সুযোগ পাওয়া গেল না। দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে, লঙ্গরখানায় পুরি-তরকারি জলখাবার খওয়ার সময় পরিচয় হল উত্তরাখণ্ড থেকে আসা শিখ প্রাক্তন সেনাকর্তা ও তার পরিবারের সাথে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষকদের ক্ষতি করছেন এই বলে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন। রাজারাম সিং-এর প্রস্তাব মতো সকলে ভগৎ সিংয়ের নামাঙ্কিত পাঠাগারের যাবার জন্য সাথী হলেন। রাস্তার উপরে বৃষ্টির জলে প্যাচপ্যাচে কাদায় প্রায় এক কিলোমিটার উপস্থিত হলাম সারা ভারত কিষান মহাসভার তৈরি পাঠাগারে। উল্টো দিকে রাস্তার পাশে বড় আকারে ত্রিপল খাটানো আস্তানা, ব্যানারে সংগঠনের নাম ফোন নাম্বার জুড়ে দিয়ে তিন কৃষক নেতা কমরেড রুলদু সিং, গুরনাম সিং, যশবীর কৌরের ছবি। সারি সারি ট্রাক্টর টলিতে কৃষকের মিছিল থেকে অনেকে চলে আসছে কৃষক সংগঠনের পতাকা নিতে, যাবার সময় মোবাইলের সংযোগ নাম্বার আদান প্রদান করছে। এআইএসএ, আরওয়এ ছাত্র-যুবরা তৎপরতার সাথে একদিকে বই বিক্রিতে ব্যস্ত, অন্যদিকে বৃষ্টি ঠেকাতে অসংখ্য ত্রিপল মজুদ করছে আবার টাঙ্গিয়ে দিচ্ছে। পরিচয় হল কমরেড সুখদর্শন সিং নাট, যশবীর কৌর, নবকিরণ সহ অনেক কমরেডদের সাথে। বাংলার কৃষক আন্দোলন, পাঞ্জাবের কৃষক আন্দোলন নিয়ে আধো আধো হিন্দি ভাষায় মত বিনিময় করলাম। ট্রলি টাইমস নামে পাঞ্জাবি ভাষায় পত্রিকা ভালোই সাড়া জাগাচ্ছে, ভগৎ সিং লাইব্রেরীর ঠিকানায় পোস্ট অফিসের পার্সেল আসতে দেখে রাজারামের তো খুব উচ্ছাস। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, দিল্লি অফিসে ফিরে যেতে হবে আগামীকাল সিঙ্ঘু সীমানায় যেতে হবে।

ggt

 

৫ জানুয়ারী সিংঘু যাবার আগে খবর পেলাম কমরেড রুলদু সিং, প্রেম সিং আসছেন কমরেড রাজা রাম সিংয়ের সাথে কিছু আলোচনা সেরে নিতে। কেন্দ্রের কৃষিমন্ত্রীর সপ্তম দফা বৈঠক বুঝিয়ে দিল তারা কৃষি আইন প্রত্যাহার করবে না। এরকমই একটা পরিস্থিতিতে আন্দোলনকে আরো জোরালো করবার জন্য সারা ভারত কিষান মহাসভার পক্ষ থেকে নেতৃত্বের ভূমিকা যোগ্যতার সাথে রাখা দরকার। আলোচনা সেরে উপস্থিত পাঁচজন রওনা দিলাম সিংঘু সীমানার দিকে। বেলা ২টায় এআইকেএসসিসি’র যৌথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সীমানার ঢোকার আগে বড় রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে পাঁচিল তুলে দাঁড়িয়ে আছে সরকারের সশস্ত্র বাহিনী। খানাখন্দে ভরা রাস্তা ধরে চলছি মোটর গাড়িতে। গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেছি, বাইরে টুপ টাপ বৃষ্টি। আন্দোলনের নেতা যোগেন্দ্র যাদবের সভাপতিত্বে শুরু হল সভা। আলোচনার বিষয় আগামী আন্দোলনের কর্মসূচী। আইনজ্ঞ মাননীয় প্রশান্ত কিশোর জানালেন উচ্চ বিচারালয়ে আবেদন করা প্রস্তাবের কয়েকটি তথ্য। সর্বসম্মতিক্রমে এবিষয়ে মতামত জানাবার জন্য তিনি আবেদন করলেন। সাথে সাথে তিনি একটি সতর্কবার্তা দিলেন কৃষক আন্দোলনের উদ্দেশ্য। দেশের সরকার এই আন্দোলনকে বেআইনি তকমা দেওয়ার জন্য আইনি পথ নিচ্ছে। তাই এমন কিছু না করা যাতে তাদের সেই ফাঁদে আন্দোলন পড়ে যায়! আলোচনায় অনেক কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধির বক্তব্য শোনা গেল, তার মাঝে সারা ভারত কিষান মহাসভার পক্ষ থেকে কমরেড রাজারাম সিং বিহারে কৃষক আন্দোলনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট সহ আন্দোলনের আগামী পরিকল্পনা পেশ করলেন, দেখলাম অনেকেই খুশি। আমিও কিছু বলবার জন্য পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসেবে সুযোগ পেলাম, কৃষি আইনের বিরুদ্ধে নিচুতলায় প্রচার, কলকাতার সমাবেশ, বিধানসভায় কৃষি আইন প্রত্যাহারের প্রস্তাব পেশ নিয়ে রাজ্য সরকারের টালবাহানা ইত্যাদি সংক্ষেপে বললাম। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, যুক্তিসংগত, সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে ২৬ জানুয়ারী প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ৭ জানুয়ারী সিংঘু, টিকরি সীমানা জুড়ে মহড়া দেওয়ার জন্য কৃষকদের ট্রাক্টর মিছিল করার সিদ্ধান্ত হয়। ১৩ জনুয়ারী তিন কালা কৃষি আইন পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানানোর কর্মসূচী সহ আরো কিছু কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। সভা শেষে নির্দিষ্ট সময়ে হয় প্রেস কনফারেন্স। অসংখ্য বিভিন্ন ধরনের মিডিয়ার সামনে নেতৃত্ব হাজির হলেন। রাজারাম সিং ও জম্মু-কাশ্মীর কৃষক সংগঠনের এক প্রতিনিধিকে সাদরে ডেকে নেওয়া হলো। সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দৃঢ়তার সাথে কৃষি আইন প্রত্যাহারের বিষয়টিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে আগামী দিনের কর্মসূচী ঘোষণা করলেন।

প্রেস কনফারেন্স শেষ, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, সবাই যে যার জায়গায় ফিরে যেতে ব্যস্ত। আমি একটু দ্বিধাগ্রস্থ ছিলাম কি করে ফিরব? ইচ্ছা প্রকাশ করলাম রাত্রিটা এখানে কাটাব, কিন্তু আগামীকাল গাজীপুর যেতে হবে, সেটা বহুদূর। প্রেম সিংহ সাহস জোগালন, একজন যুবক কমরেডকে সঙ্গে দিয়ে সিঙ্ঘু বর্ডারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বললেন। যথারীতি রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি, সারিবদ্ধ ট্রাকটারের মাঝখানে সরু রাস্তা দিয়ে অসংখ্য মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলছে দ্রুত গতিতে। অন্ধকার নেমে আসছে, হঠাৎ একজন মোটরসাইকেল চালক যুবককে ডেকে বলল, এনাকে সিংঘু বর্ডারে পৌঁছে দিতে হবে। যথারীতি উঠে পড়লাম। কখনো আস্তে, কখনো একটু গতি নিয়ে মোটরসাইকেল ছুটে চলেছে। আমি মোবাইলে ভিডিও তুলতে লাগলাম। কোথাও কাঠে আগুন জেলে চারিদিকে বসে আছে, কোথাও ট্রলিতে টিমটিমে আলোতে কথা চলছে, লঙ্গরখানাতে খাবার তৈরি হচ্ছে, খাচ্ছে; হাঁটতে পারে বাচ্চা নিয়ে মা পাশ কাটিয়ে নিজের ডেরায় ফিরতে ব্যস্ত, কোথাও ট্রলিতে বসে কয়েকজন মিলে পাঞ্জাবি ভাষায় গান গাইছেন, বিশাল জ্যাম ছাড়াবার জন্য আন্দোলনের কর্মীরা ঠান্ডা মাথায় কাজ করে যাচ্ছেন। আমার চালক মাঝে জিজ্ঞাসা করলেন, “আপ কাহা তক জায়েঙ্গে? ম্যায় কিষাণ আন্দোলনকা সাথী হু, সিংঘু বর্ডার মে জায়েঙ্গে, উহাসে বাস পাকরেঙ্গে”। নির্বিঘ্নে পৌঁছে দিল সেই যুবক। রাত্রে মেট্রো ধরে ফিরলাম দিল্লিতে।

৬ জনুয়ারী, সকাল এগারোটায় গাজীপুর বর্ডারে পৌঁছে গেলাম। কাছাকাছি সারা ভারত কিষান মহাসভার ব্যানার লাগানো, এমনি ছোট্ট বইয়ের তাক সাজান স্টল, কমরেড শ্যামকিশোর ভিতরে আছেন, পাশে মহিলারা তাদের ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে বসে আছেন। নিজের পরিচয় দিলাম, কিছুক্ষণ বসে স্বল্প কিছু কথা বললাম, পরিস্থিতি জানলাম। তিনটি বড় চওড়া রাস্তার ধরে দু’কিলোমিটার পর্যন্ত কৃষক আন্দোলনের জন্য আসা ট্রাক্টর টলি আর জমায়েত। বামপন্থী ও অন্যান্য কৃষক সংগঠনের উপস্থিতি জানিয়ে দিচ্ছে তাদের ব্যানার ও পতাকা, বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা একটা ডেরায় জমায়েত হয়েছেন, সকালের দিকে নাস্তা সারতে ব্যস্ত অনেকেই, আমিও সামিল হলাম। গরিব শিশুরা বিনা পয়সায় খাবার পেয়ে খুব খুশি, তাদের উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছিল, তারাও এই আন্দোলনের অংশীদার। কাছেই একটা বড় মঞ্চ, সেখানে সাজানো-গোছানো চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘোষণা হতে শুরু করল আগামী ৭ জানুয়ারী ট্রাক্টর মিছিলের প্রস্তুতি। দু’একটা ছোট ছোট মিছিল আসতে শুরু করেছে মঞ্চের কাছাকাছি। এখানে আন্দোলনের কর্মীদের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে তৎপরতা কিছুটা মন্থর গতি সম্পন্ন বলে মনে হচ্ছিল। কিষান মহাসাগর অবস্থানস্থলে ফিরে এসে আরো কিছুক্ষণ উপস্থিত মহিলাদের সাথে কথা বলে কাটালাম। তারা বেশিরভাগই বিহার থেকে আসা, কৃষক আন্দোলনের প্রশ্নে তৎপরতার সাথে তাদের দুঃখ-দুর্দশা সমস্যা তুলে ধরলেন, মোদী, শাহের বিরুদ্ধে তীব্র ধিক্কার জানালেন।সন্ধ্যার আগেই এখান থেকে ফিরলাম পার্টির দিল্লীর সেন্ট্রাল অফিসে। পরের দিন ৭ তারিখ রওনা দিলাম বাংলার উদ্দেশ্যে।

- কৃষ্ণ প্রামানিক 

fffffffa

বঙ্গে নির্বাচন যত নিকটবর্তী হইতেছে, বর্গী হামলা তত তীব্রতর হইতেছে। প্রায় প্রতিদিন বায়ুযানে বিভিন্ন বর্গের কমলবাবুদের আগমন ঘটিতেছে। ঘৃত ননী দুগ্ধ দধি পোষিত, নধরকান্তি, বহুমূল্য শালশোভিত ‘তাঁহারা’ কুসুমাস্তীর্ণ পথে গোলাপ পাপড়ি নিক্ষেপ করিতে করিতে ট্রাকবাহনে গজেন্দ্রগমনে ‘রোড-শো’ করিতেছেন। বিভিন্ন ক্যাটাগরির বহুমূল্য নিরাপত্তাসুরক্ষিত ‘তাহাদের’ রাজ্য প্রশাসনে আস্থা না থাকিলেও প্রশাসনের কিন্তু কালঘাম ছুটিতেছে। কারণ কোভিড আবহে যখন রাজ্যের মানুষ বিপন্ন,স্বজন হারাইয়া শোকার্ত, যখন প্রশাসন ও স্বাস্থ্য জগতের বহু যোদ্ধা জীবন দিয়াছেন তখন এই কমলবাবুদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিয়া অনেক খুঁতখুঁত রহিয়াছে।

তাহাদের ‘ভারত মাতা কি জয়’ হুহুঙ্কারে ভারতমাতার কী হইতেছে জানি না, তবে বঙ্গজননীর অন্তরাত্মা কাঁপিয়া কাঁপিয়া উঠিতেছে। তাহারা গ্রাম গ্রামান্তরে সভা করিতেছেন। গাঁদা মাল্যে ভূষিত ঘাড়ে-গর্দানে নেতাদের দেখিয়া জনতা পরম আহ্লাদে হর্ষধ্বনি করিতেছে। সবই ঠিক ঠাক চলিতেছে। যেন এ বঙ্গে কোনো শোক তাপ অনশন অর্ধাশন কিছুই নাই। আছে শুধু ভক্তকুলের সহর্ষ উল্লাস, বাহুবলের আস্ফালন, শক্তি প্রদর্শন,আর কুমন্তব্যের তুবড়ি-বিস্ফোরণ!

এহ বাহ্য। গোল বাধিল যখন তাহারা বঙ্গের সাহিত্য সংস্কৃতি ঐতিহ্য ইতিহাস প্রসঙ্গে তাহাদের বিদ্যাবত্তা জাহির করিতে শুরু করিলেন। আকছার উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিতে লাগিল। তাহাদের আর দোষ কি! গোবলয়ের সংস্কৃতিলালিত নেতারা কি হঠাৎ জাদুবলে বঙ্গজীবনের হদিশ পাইয়া যাইবেন? তাই কখনও সাঁওতালি জনগণকে খেপাইয়া তুলিলেন, কখনও বা গৌর-ভক্তদের! রাজ্যের শীর্ষ নেতা আবার ভূগোলজ্ঞানের পরাকাষ্ঠা দেখাইয়া ‘কাটোয়া’কে পূর্ব মেদিনীপুরের অন্তর্ভুক্ত করিয়া ফেলিলেন! তাহাতে আর বিশেষ কী! ভাবী মুখ্য প্রশাসকের পদের দাবিদার তাহার অসাধারণ জ্ঞানবত্তার কত অপরূপ পরিচয়ই তো রাখিয়াছেন! আফশোস হয়,বঙ্গের বিশ্বমানের কৌতুকশিল্পীরা আজ অনেকেই বাঁচিয়া নাই। থাকিলে কী অমূল্য সৃজনের উপকরণ পাইতেন!

সেই দিন কলকাতার রাজপথ আরেক যাত্রা পালার সাক্ষী থাকিল। জনৈক কমলবাবু  অনেক জল্পনান্তে ‘রোড শো’ করিয়া ভক্তকুলের আনন্দবর্ধন করিলেন। তাহাদের হাস্যে,আধো আধো ভাষ্যে, বহুমূল্য অলঙ্কার ও সযত্ন প্রসাধনে শ্রী বৈভব সমৃদ্ধি উপচীয়মান।

বেশ কয়েক বছর ধরিয়া বঙ্গ রাজনীতিতে ‘বাহুবলী’ অনুপ্রবেশ ঘটিতেছিল। শিষ্টতা-সৌজন্য বিরহিত সেই মঞ্চে এখন উন্মত্ত লম্ফঝম্প, অর্থ-বিত্তের কুৎসিত জগঝম্প। “শুধু যাওয়া আসা স্রোতে ভাসা”--!

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনের পূর্বে এক অশীতিপর বিদগ্ধ অধ্যাপক ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় জানাইয়া ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য ‘দর্শনধারী’ হওয়াটাও বাঞ্ছনীয় এবং সেই বিচারে তিনি তৎকালীনকে অগ্রাধিকারে রাখিয়াছিলেন। অর্থাৎ শুধু আম জনতা নহেন, দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ দেওয়া নাগরিকের কাছেও রাজনীতিকের ‘শ্রীযুক্ত’ চেহারা সর্বাগ্রে বিবেচ্য! বটেই তো! দিনকালের পরিবর্তনে এখন আর বিশীর্ণ ধূলিধূসর চেহারার রাজনীতিক কাহারও মনঃপূত না হওয়ারই কথা। কারণ রাজনীতির সংজ্ঞা বহুদিন আগে পাল্টাইয়া গিয়াছে! কিন্তু শ্রীযুক্তদের ভীড়ে রাজনীতি ক্রমশই ‘বিশ্রী’ হইয়া উঠিতেছে – ইহা তো আমরা মর্মে মর্মে বুঝিয়েছি! বাঙ্গালীর কি এখনও মোহমুক্তি ঘটিবে না?

আপামর জনতা কি এই গড্ডলিকা প্রবাহে গা ভাসাইয়া দিবে! এই অলীক কুনাট্য রঙ্গের নির্বাক দর্শক হইয়া থাকিবে! – এবং অবশেষে গো-সংস্কৃতির ত্রিপলাচ্ছাদনের গাঢ় তমিস্রায় বঙ্গসংস্কৃতি বিলীন হইবে!

fffeeeddgg

জাতীয় রাজনীতিতে গুজরাত এবং বাংলার মধ্যে মাঝে মাঝেই তুলনা করা হয়। এই তুলনা আরো বেশি জোরালো হয়েছে বাংলা ছেড়ে টাটা ন্যানো কারখানা গুজরাতে চলে যাওয়ার পর৷ বাংলাকে দেখা হয় ভারতীয় পুঁজিবাদী উন্নয়নের পথের কাঁটা হিসেবে। গুজরাত সেখানে পুরো ভারতের জন্য একটি মডেল হিসেবে প্রচার পায়। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে দেখতে গেলে গুজরাতের মাথাপিছু রাজ্যের উৎপাদন পশ্চিমবঙ্গের থেকে প্রায় দু’গুণ বেশি। কিন্তু সম্প্রতি জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সার্ভেতে উঠে এসেছে যে বাংলার বাচ্চারা গুজরাতের বাচ্চাদের থেকে স্বাস্থ্যের দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে৷ সার্ভেতে যেই তথ্যগুলো উঠে এসেছে সেগুলো গ্রাফে দেখুন।

১৯৯৪ থেকেই গুজরাত এবং বাংলার মধ্যে ব্যবধান বেড়েই চলেছে। কিন্তু এই সময়তেই গুজরাতের শিল্পে উন্নতির সিংহভাগটা হয়েছে। প্রশ্ন হল গুজরাতের এই বিপুল শিল্পে উন্নতি তার রাজ্যের পরবর্তী প্রজন্মের কাজে এল না কেন?

প্রবীর চ্যাটার্জি একজন ডাক্তার যিনি গ্রামবাংলায় কাজ করেন৷ তার বক্তব্য অনুযায়ী রেশন ব্যবস্থার তূলনামূলক কার্যকরী নেটওয়ার্ক এবং মহিলাদের উচ্চ শিক্ষার বেশি প্রসার বাংলাকে এগিয়ে দিয়েছে। পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা শক্তিশালী হওয়াও আরেকটা কারণ।

রেশন ব্যবস্থায় একসময় বাংলা পিছিয়ে থাকলেও ২০১৬ সালের সার্ভেতে উঠে এসেছে যে পশ্চিমবঙ্গ রেশন ব্যবস্থায় রাজ্যগুলোর মধ্যে ওপরের দিকে উঠে গেছে।

বাংলায় সরকার বেশ অনেকদিন ধরেই জনস্বাস্থ্যের ওপর জোর দিচ্ছে। বাংলায় সরকারী হাসপাতাল বেড প্রতি ১,০০০ জনে ২.২৫টা। এতে সব রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে আছে পশ্চিমবঙ্গ।

জ দ্রেজ বলেছেন যে পশ্চিমবঙ্গ যে খুব ভাল নিজেদেরকে করে ফেলেছে তা নয়। বরং গুজরাত এতটাই খারাপ যে পশ্চিমবঙ্গকে তার তুলনায় ভাল লাগছে। তিনি গুজরাতকে মডেল না বলে একটি ধাঁধা ভাবতে বেশি পছন্দ করেন। গুজরাত নারীর স্বাধীনতার দিক দিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। তিনি বলেন যে শিশুস্বাস্থ্য আর নারী স্বাধীনতা যে পরস্পরের সাথে যুক্ত সেটা এখন সবার জানা।

গুজরাত সরকারের প্রাইভেট পার্টনারশিপের ওপর বেশি জোর তার রেশন ব্যবস্থাকে খুব একটা উন্নত করতে পারেনি।

তবুও জ দ্রেজের মতে গুজরাতের সামাজিক সূচকে খারাপ অবস্থার কারণ এখনো ভাল ভাবে বোঝা যায়নি৷

ssarso

গত বছর জুলাই মাসে যখন সারা দেশে লকডাউন চলছিল, তখন কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলায় ঘটা এক পুলিশ এনকাউন্টার খবরের শিরোনামে আসে। রাষ্ট্রীয় রাইফেলের ক্যাপ্টেন ভূপিন্দর সিং আরো দুই অধস্তন কর্মীদের নিয়ে ‘অপারেশন’টি চালান। ঘটনার পর থেকেই কাশ্মীরীরা বলে আসছিলেন যে ওটা ছিল আসলে একটা ফেক এনকাউন্টার। তাঁদের দাবি নিহত ব্যক্তিরা আসলে নিরীহ নিরপরাধ শ্রমিক। সেনার তরফ থেকে প্রথমে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা তাদের অবস্থান পাল্টাতে বাধ্য হয়।

১৮ জুলাই ২০২০। কাশ্মীরের শোপিয়ান জেলার আমশিপোরা গ্রাম। হঠাৎ খবর আসা শুরু করে যে ওই গ্রামে রাষ্ট্রীয় রাইফেলের জওয়ানেরা তিন ‘জঙ্গিকে’ হত্যা করেছে । যদিও সেনার তরফ থেকে সেই জঙ্গিদের কোনো পরিচয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। পরের দিন, সাংবাদিক সম্মেলন করে ভারতীয় সেনার পক্ষ থেকে বলা হয় যে ‘বিশেষ সূত্র’ থেকে খবর এসেছিল যে চার পাঁচ জন বিদেশী জঙ্গি নাকি ওই এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে আছে। খবর পাওয়া মাত্রও সেনার তরফ থেকে গতিবিধি শুরু করা হয়। ওই এলাকাটিকে সেনার জওয়ানেরা ঘিরে তল্লাশি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে জঙ্গিদের নাগালের মধ্যে পেলে জওয়ানেরা তাদের তিন জনকে ধরাশয়ী করে। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলা হয় যে উক্ত জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমানে অত্যাধুনিক অস্ত্র শস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

পরের মাস থেকেই অন্য রকম খবর আসা শুরু করে। নিহতদের নিরীহ মজদুর বলে দাবি জানান কিছু স্থানীয় অধিবাসী। পাশের রাজোরি জেলার এক পরিবারের তরফ থেকে বলা হয় নিহত ওই তিন ব্যক্তি আসলে তাঁদের পরিবারের সদস্য। তাঁরা নিহতদের নাম ঘোষনা করেন – তাঁদের মতে এই তিনজনের নাম ছিল ইমিতিয়াজ আহমেদ (বয়েস কুড়ি), আবরার আহমেদ (বয়েস ষোলো) এবং মোহাম্মদ ইব্রার (বয়েস পঁচিশ)। তাঁরা আরো জানান যে এই তিন জন আসলে একে ওপরের ভাই। জুলাই মাসের ষোলো তারিখে তারা শোপিয়ান জেলায় যায় কাজের সন্ধানে। কিন্তু তারপর থেকে তাদের সাথে তাদের পরিবারের কোনো যোগাযোগ হয়নি। চিন্তিত হয়ে পরিবারের লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। এই মর্মে পরিবারের লোকের রাজোরি জেলায় পিরি থানায় নিরুদ্দেশ রিপোর্ট করে। ইতিমধ্যে তাঁদের কাছে আমশিপুরা এনকাউন্টারের খবর আসে। সোশ্যাল মিডিয়া মারফত নিহতদের ছবি ও তাঁদের হাতে আসে। সেই ছবি দেখেই তাঁরা তাদের সন্তানদের চিনতে পেরেছেন বলে তাঁরা দাবি করেন।

এই রিপোর্টের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে জম্মু কাশ্মীর পুলিশ। তদন্তে জানা যায় যে নিহতদের প্রত্যেকের কাছেই তাদের আধার কার্ড ছিল। যদিও সেনার তরফ থেকে দাবি করা হয় যে তথাকথিত নিহত জঙ্গিদের কোনো পরিচয় পাওয়া যাও নি। আর সনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে তারা নিহতদের বারামুলা জেলার এক অচিহ্নিত কবরখানায় কবর দিয়ে আসে। এই খবরের পর মৃতদেহ কবর থেকে বার করে ডিএনএ নিরীক্ষণ করার দাবি জানায় উক্ত পরিবার। ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া যায় যে, ওই নিহত তিন ব্যক্তি আসলে ওই পরিবারেরই সদস্য। এর পরে স্বাভাবিক ভাবেই এটাও প্রমান হয় যে সেনার তরফ থেকে ওই একাউন্টার সম্পর্কে যা বলা হয়েছিল তার এক বর্ণ ও সত্য নয়। এর পর সেনার তরফ থেকে উচ্চ স্তরীয় তদন্তের ঘোষণা করা হয়।

জম্মু কাশ্মীর পুলিশ সম্প্রীতি অভিযোগ পত্র (চার্জশীট) দায়ের করেছে। তাতে, প্রথমিক অনুসন্ধানের করে তার জেনেছে যে আসলে রাষ্ট্রীয় রাইফেরলের ক্যাপ্টেন ভূপিন্দর সিং আরো কিছু তার কিছু অধস্তন কর্মী ও অসামরিক ইনফর্মারদের নিয়ে এই ‘ষড়য্ন্ত্র’টি করে। তারা তিন মজদুর কে হত্যা করে, তাদের পরিচয় লোপাট করার চেষ্টা করে, এবং তার পরে তাদের শবের পাশে অত্যাধুনিক হাতিয়ার রেখে তাদেরকে ‘জঙ্গি’ বলে চালানোর চেষ্টা করে। জম্মু কাশ্মীরের সাধারণ নাগরিকদের একাংশের ধারণা যে শুধুমাত্র পুরস্কারের লোভে রাষ্ট্রীয় রাইফেলের জওয়ানেরা ওই হত্যা লীলা চালানো হয়।

- বিষ্ময় বসু 

gggg

সেই ২০১৭ থেকে রাজ্য সরকারের গ্রুপ-ডি রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ওয়েটিং লিস্ট তালিকাভুক্ত চাকরি প্রার্থীরা বঞ্চিত, এমনটাই অভিযোগ শ্রী আশিষ খামরুইয়ের, যিনি এঁদের অন্যতম মুখপাত্র। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যে ৬০,০০০ গ্রুপ-ডি কর্মী আগামি পাঁচ বছরে নিয়োগ করা হবে। ২০১৭ সালে ৬,০০০ কর্মী নিয়োগের নোটিফিকেশন জারি হয়। সেই বছরই ২০ মে ১৯ লক্ষ প্রার্থী পরীক্ষায় বসে। সেপ্টেম্বর মাসে ফলাফল জানা যায় এবং প্রায় ১৮,০০০ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। যথেষ্ট যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার কারণে ২০১৮-র এপ্রিল মাসে আরও ১,২০০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ঐ বছরের আগস্ট মাসে মেরিট লিস্টে ৫,৩৮০ জনের নাম প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পরে দ্বিতীয় তালিকায় আরও কিছু নাম যোগ হয় এবং মোট ৫,৪২২ প্রার্থী চাকরি পায়, বাকি ৫৭৮ পদ খালি থাকে। একটি ওয়েটিং লিস্ট তৈরি হয় তাতে কতজনের নাম আছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। শ্রী খামরুইয়ের মতে সংখ্যাটি ১,২০০র কাছাকাছি। এই অপেক্ষামান প্রার্থীরা তালিকায় তাঁদের ক্রমিক নম্বর জানতে চান, কিন্তু সেক্ষেত্রেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না। এখন অবধি অপেক্ষামান প্রার্থীর তালিকা এবং তাঁদের ক্রমিক নম্বর প্রকাশে সরকারের দিক থেকে স্বচ্ছতার অভাব দেখা গেছে। এই কারণে গত চার বছর ধরে এই প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

একটি স্বচ্ছ ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ করে খালি পদগুলি ভরাট করার জন্য তাঁরা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে ডেপুটেশন দিয়েছেন। ৮ জুলাই ২০১৯ তাঁরা রেড রোডে অবস্থান করেছেন, তিনদিন বাদে মৌন মিছিল করেছেন। সম্প্রতি গোলপার্কের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছেন। তাঁরা এই সমস্যা নিয়ে RTI করেছেন কিন্তু সেটির কোনো জবাব তাঁরা আজ অবধি পাননি। এই প্রার্থীরা সরকারি লালফিতে এবং দীর্ঘসূত্রতার শিকার। এঁদের নিয়োগের ব্যাপারে সরকারের দুটি বিভাগ P&AR (পারসোন্যাল এন্ড অ্যাডমিনিট্রেটিভ রিফর্মস) এবং গ্রুপ-ডি রিক্রুটমেন্ট বোর্ড একে অন্যের দিকে দায়িত্ব ঠেলে দিয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের আন্তরিক আবেদন যেন ৫৭৮টি শূন্য পদের জন্য অবিলম্বে নিয়োগ করা হয়। তাঁরা আশা করছেন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে যেমন এক্সটেন্ডেড ভ্যাকেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়, তাঁদেরকেও এই সুবিধা প্রদান করা হবে। তাঁরা আশাবাদী যে সরকার এই ব্যাপারে অবিলম্বে সদর্থক পদক্ষেপ নেবে।

- সোমনাথ গুহ  

End

খণ্ড-28
সংখ্যা-2
14-01-2021