কেন্দ্রের মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়নগুলির যুক্ত কনভেনশন

গত ৪ জুন কলকাতার রাণী রাসমনি রোডে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন সমূহের এক খোলা কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।

এই কনভেনশনের প্রস্তাবনায় বলা হয় যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে মোদী সরকার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের তুষ্ট করতে ১০০ দিনের মধ্যেই আর্থিক সংস্কারের কাজ সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিঃসন্দেহে মারাত্মক সিদ্ধান্ত। প্রতিরোধ করতে না পারলে এর পরিণতি যে ভংয়কর হবে এ বিষয়ে কারও কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয়। গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বেকারীর হারে সমাজ জর্জরিত। কেন্দ্রীয় সংস্থা থেকে বেসরকারী ক্ষেত্রে অমানুষিক ছাঁটাই আর ছাঁটাই। কাজের বাজারে কাজ নেই।

৪৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাকে জলের দরে ব্যাংকের টাকা মারা লুটেরা কর্পোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। দেশের জমি ল্যান্ড ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশী করপোরেটদের হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ৪৪টি শ্রম আইনকে ৪ টি লেবার কোডে নিয়ে এসে ৯০% অসংগঠিত শ্রমিককেই প্রচলিত শ্রম আইনের বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হবে। প্রাপ্য পিএফ, চিকিৎসার সুযোগ, সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি, বোনাস প্রভৃতি আওতার বাইরে এনে ইচ্ছেমত নির্যাতন, দিনরাত কাজ করানো ও তাঁদের ছাঁটাইয়ের অধিকার মালিকদের হাতে একতরফা তুলে দেওয়ার সমস্ত বন্দোবস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। মোদি সরকার ২০১৯-২০ আর্থিক বর্ষেই ৯০০০০ কোটি টাকা শেয়ার বিক্রি করবে বলে ঘোষণা করেছে। একই সাথে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা ধার নেওয়া পুঁজিপতিদের ঋণ মকুব করা হচ্ছে। ব্যাংককে রুগ্ন করে বেসরকারিকরণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

এর পাশাপাশি আরএসএস পরিচালিত ফ্যাসিবাদী বিজেপি হিন্দুরাষ্ট্রের শ্লোগান দিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জাতিদাঙ্গা লাগিয়ে দিচ্ছে। গোরক্ষার নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও দলিতদের খুন করছে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে থেকেই আরএসএস, বিজেপি সারা দেশে এক আতংকের পরিবেশ তৈরি করেছে। দেশের সংবিধান সংশোধন করে দেশের এক অংশের মানুষের নাগরিক অধিকার হরণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। সিটিজেন রেজিস্ট্রারের নামে দেশের মানুষকে বিদেশী আখ্যায় অভিহিত করার আশংকায় বিরাট এক অংশের মানুষ উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এই রাজ্যে তৃণমূল দল নতুন করে প্রাদেশিকতার জিগির তুলে রাজ্যে মেরুকরণ ও বিশৃংখলা সৃষ্টির কাজে এগিয়ে চলেছে। এই দুই শক্তির সাম্প্রদায়িকতা ও প্রাদেশিকতার জিগিরকে প্রতিরোধ করা আজ জরুরি। এই কনভেনশনে সভাপতিমন্ডলীতে ছিলেন এআইসিসিটিইউ রাজ্য সভাপতি অতনু চক্রবর্তী সহ অন্যান্য ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন এআইসিসিটিইউ-র রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক বাসুদেব বসু সহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

এই কনভেনশন থেকে জুন মাসে জেলায় জেলায় কনভেনশন, অবস্থান, জেলাশাসককে স্মারকলিপি প্রদান ইত্যাদি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করার প্রস্তাব গৃহীত হয়।

খণ্ড-26
সংখ্যা-15
06-06-2019