উত্তর ২৪ পরগণায় বামফ্রন্ট প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার

সিপিআই(এমএল) লিবারেশন উত্তর ২৪ পরগণা জেলায় লোকসভা নির্বাচনে কোন প্রার্থী ছিল না। নেতা থেকে কর্মী সবাই সাধারণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের রাজনৈতিক চাহিদা মেটাতে থাকেন। জেলা কমিটি সিদ্ধান্ত নেয় পার্টিকর্মীদের সক্রিয় করে তুলে ফ্যাসিবাদী বিজেপি ও স্বৈরাচারী তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবং বামফ্রন্ট প্রার্থীদের সমর্থনে কার্যকরী (এফেক্টটিভ) প্রচার শুরু করার। কমিটি এই প্রশ্নে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়।

যে সিদ্ধান্তগুলো হয় :

১. নিজেদের স্বাধীন প্রচার করা। ২. প্রচারের অঙ্গ হিসাবে রাজ্য কমিটির প্রকাশিত লিফলেট বিলি, মিছিল, স্কোয়াডিং, সভা করা এবং ছাপানো পোস্টার সর্বত্র লাগানো। ৩. বামফ্রন্ট আঞ্চলিক বা স্থানীয় স্তরে পার্টিকে আমন্ত্রণ জানালে আমরা ইতিবাচক সাড়া দেব। ৪. নৈহাটি, খড়দহ বেলঘরিয়া, বারাসাত, মধ্যমগ্রাম, গাইঘাটা, অশোকনগর এবং বসিরহাট সর্বত্রই এই দিশায় প্রচার চলেছে।

নৈহাটিতে দু-দিন মিছিল, কর্মী বৈঠক এবং লিফলেট বিলি করা হয়। ফণী ঝড়ের জন্য মিটিং বাতিল করতে বাধ্য হয়। মিছিল বামপন্থী কর্মীদের মধ্যে ভাল প্রভাব ফেলে। বারাসাতে ভ্যানে মাইক লাগিয়ে বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে প্রচার করা হয়। মধ্যমগ্রামে বামফ্রন্টের মিটিং-এ আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন সুজিত ঘোষ। সুজিতের বক্তব্য উপস্থিত জনতার কাছে প্রশংসিত হয়। এছাড়াও বারাসাত, মধ্যমগ্রামে পোস্টারিং করা হয়। অশোকনগরে পার্ কর্মীরা স্বাধীনভাবে বাড়ি বাড়ি প্রচার এবং পোস্টারিং করে। পার্টির পক্ষ থেকে বামফ্রন্টের প্রার্থীর সমর্থনে পথসভা করা হয়। সিপিআই(এম) কর্মীরা জেলা সম্পাদকের বক্তব্য শোনার পর প্রশংসা করেন। গাইঘাটায় রাজ্য কমিটির প্রকাশিত লিফলেট বিলি করা হয়। বসিরহাট সর্বত্র পোস্টারিং ও লিফলেট বিলি করা হয়। খড়দহ লিফলেট বিলি ও পোস্টার লাগানো হয়। বেলঘরিয়া, কামারহাটি, আড়িয়াদহ-দক্ষিণেশ্বরে প্রচারপত্র বিলি ও সর্বত্র পোস্টার লাগানো হয় এবং একদিন মিছিল করা হয়।

বেলঘরিয়ায় সিপিআই(এম) দু’টি সভায় আমাদের আমন্ত্রণ করে। আমন্ত্রিত বক্তা হিসাবে একটিতে সুজিত ঘোষ অন্যটিতে নবেন্দু দাশগুপ্ত উপস্থিত ছিলেন। এই সভাগুলিতে আমরা ব্যানার ছাড়া কয়েকজন স্থানীয় পার্টি নেতৃত্ব উপস্থিত হয়েছিলাম। এগুলি কোনটাই যৌথ কর্মসূচি ছিল না। ওদের কর্মসূচিতে আমরা আমন্ত্রিত ছিলাম। আমরা পথসভা করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলাম। সেখানে ওদের এমএলএ-কে আমন্ত্রণ করি, কিন্তু মিটিং করার কোনো অনুমতি না পাওয়ার জন্য সভা বাতিল করতে আমরা বাধ্য হই। এগুলোর কোনোটাই যৌথসভা ছিল না। এটা বিপিএমও বা ৮-৯ জানুয়ারির মতো যৌথ কর্মসূচি ছিল না। ওরা ওদের মতো ভোটে দাঁড়িয়েছে, আমরা আমাদের মতো সমর্থন দিয়েছি।

নির্বাচনী সভায় পার্টির বক্তারা বলেন ফ্যাসিবাদী বিজেপি ও স্বৈরাচারী তৃণমূলের বিরুদ্ধে বামেরা নিজেদের ভোট নিজেদের দিলে এই আসনটা বামেদের জেতার সম্ভাবনা আছে। বিপ্লবী বামপন্থার বর্তমানের জরুরি কাজ হল বাম ভোট যাতে বামেরাই পায় তা সুনিশ্চিত করা। যখন যে বিষয় প্রধান থাকে সেখানেই বোধহয় হস্তক্ষেপ করা জরুরি হয়ে ওঠে। তখন পুরানো কিছু বিষয় পিছনে চলে যায়, আবার কোনো এক সন্ধিক্ষণে পুরানো বিতর্কই সামনে চলে আসতে পারে। যান্ত্রিকতা নয়, সমসাময়িক ঘটনায় হস্তক্ষেপ করে নিজেদের গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসার এইতো সুযোগ। আন্তরিকভাবে বামপন্থী কর্মীদের সাথে রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে আগামীদিনে নতুন ভাবে বাম ঐক্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে।

খণ্ড-26
23-05-2019